এক বছরের মধ্যে নির্বাচন চান ৬১.১ শতাংশ মানুষ

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৮ এএম

আগামী এক বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন দেশের ৬১ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সব সংস্কার শেষে নির্বাচনের পক্ষে ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ নাগরিক। আর শুধু নির্বাচন-সংক্রান্ত জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের। ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ) বাংলার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ওই জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ চান দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নির্বাচন, আর ৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ নির্বাচন চান ১৮ মাসের মধ্যে। সবচেয়ে কম ৫ দশমিক ৮ শতাংশ জনগণ চার বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় পর আগামী জাতীয় নির্বাচন হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

কত দ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত, এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলেছেন ৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ আর নির্বাচন কবে হওয়া উচিত সে সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি ১ দশমিক ১ শতাংশ।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠন হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেমন আছে বাংলাদেশ, এ নিয়ে কী ভাবছেন দেশের নাগরিকরা, এসব বিষয়ে গত ১৩ থেকে ২৭ অক্টোবর ভয়েস অব আমেরিকা দেশ জুড়ে জরিপ চালায়।

জরিপটি ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার সম্পাদকীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করে গবেষণা ও জরিপ প্রতিষ্ঠান ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড। ভয়েস অব আমেরিকার ঠিক করে দেওয়া (ক্লোজ অ্যান্ড) প্রশ্নমালার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার অ্যাসিসটেড টেলিফোন ইন্টারভিউইংয়ের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে ১৮ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী এক হাজার মানুষের মধ্যে জরিপটি পরিচালিত হয়।

জরিপটি করা হয়, দৈবচয়ন ডিজিটাল ডায়ালিং পদ্ধতিতে। দেশের মোবাইল ফোন নম্বরগুলোর সম্ভাব্য সব ধরনের কম্বিনেশন থেকে করা ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেডের নিজস্ব ডেটাবেজ থেকে জরিপটির নমুনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের ২০১৭ সালে সর্বশেষ প্রকাশিত অফিশিয়াল টেলিফোন প্ল্যান থেকে এ নমুনা নেওয়া হয়। একটি আর-বেজড প্রোগ্রাম ব্যবহার করে সিম্পল র‌্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের (এসআরএস) মাধ্যমে জরিপটির নমুনা বাছাই করা হয়েছে।

জরিপ পরিচালনার কাজে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের মাধ্যমে ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেডের ঢাকা অফিসের কলসেন্টার থেকে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ফোন করা হয়।

ভয়েস অব আমেরিকা বলছে, জরিপটিতে মার্জিন অব এরর ৩ দশমিক ১ শতাংশ। জরিপটির উত্তরদাতারা প্রায় এক মাস আগে যেহেতু তাদের মতামত জানিয়েছেন, তাই এখন জরিপটি করলে এর ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন হতে পারে।

জরিপে অংশ নেওয়া শহরের জনগণের ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ ও গ্রামে বসবাসরতদের ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ আগামী এক বছরের মধ্যে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন চান। জরিপে অংশগ্রহণকারী পুরুষদের ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ ও নারীদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নির্বাচন চান এক বছরের মধ্যে।

তরুণদের মধ্যে (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ এক বছরের মধ্যে আগামী নির্বাচন চান। আর ৩৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ এক বছরের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন চান।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শহরাঞ্চলের ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ ও গ্রামীণ এলাকার ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নির্বাচন চান। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া পুরুষদের ২০ দশমিক ৩ শতাংশ ও নারীদের ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। ১৮ থেকে ৩৪ বছরের তরুণদের ১৫ দশমিক ২ ও ৩৫ ও তার চেয়ে বেশি বয়সের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২২ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আগামী নির্বাচন হওয়া উচিত।

১৮ মাসের মধ্যে আগামী নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন শহরের ১০ দশমিক ৩, গ্রামের ৮, পুরুষদের ১২, নারীদের ৫ দশমিক ২, তরুণদের (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) ৮ দশমিক ৬ এবং ৩৫ বছর বা এর থেকে বেশি বয়সীদের মধ্যে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।

চার বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছেন, শহরের ৬ দশমিক ২, গ্রামের ৫ দশমিক ৭, পুরুষদের ৬ দশমিক ৯, নারীদের ৪ দশমিক ৮, তরুণদের (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) ৭ দশমিক ৬; ৩৫ বছর বা এর থেকে বেশি বয়সীদের ৪ শতাংশ মানুষ।

অন্তর্বর্তী সরকার দেশের শাসনভার গ্রহণের পর থেকেই বিএনপিসহ বিভিন্ন দল একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দ্রুত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। তাদের বক্তব্য, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করার পরই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত