কমিশনের মতবিনিময়

সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার পরামর্শ

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৪ এএম

সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত, না ভোট ফিরিয়ে আনা, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন, ভুয়া নির্বাচনের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির বিধান, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন সংস্কার ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধসহ বেশ কয়েকটি পরামর্শ উঠে এসেছে নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের সভায়। গতকাল শনিবার বেসরকারি টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে সংস্কার কমিশনের এই মতবিনিময় সভা হয়।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাব তৈরির কাজ করছে বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। তারা অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করার কথা রয়েছে। এখন পর্যন্ত সংস্কার কমিশন কোনো প্রস্তাব বা সুপারিশ তৈরি করেনি।

বেসরকারি টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘যে বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে এসেছে, তা আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি, আমরা সব সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে ভেবেচিন্তে প্রস্তাব করব।’

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, সভায় অংশগ্রহণকারীরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নিতে এবং রাষ্ট্রপতি কোনো দলের সদস্য হতে পারবে না বলে সুপারিশ করেছেন। এ ছাড়া সব নির্বাচন প্রত্যক্ষ হওয়ার কথা বলেছেন কেউ কেউ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ার কথা হয়েছে, সংসদীয় পদ্ধতিতে যেন না হয়।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিয়োগের কথা এসেছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা এসেছে। কত শতাংশ ভোট পেলে নির্বাচিত হবেন সে বিষয়েও বলেছেন। না ভোট ফিরিয়ে আনার জন্য বলেছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেন কেউ নির্বাচিত না হন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সংস্কার কমিশনের সদস্য স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে হতে পারে, তবে তা নির্বাচনী পদ্ধতি সংস্কারের পর। নির্বাচনের যে সিস্টেম আছে, সেটা আইয়ুব খানের ভাবনায় রেখে করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ১০ বছর পরে উপজেলা, তার ১০ বছর পর উপজেলা পরিষদ হয়েছে। সিস্টেম করার জন্য এখন মোক্ষম সময়। কেন না, বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার কিন্তু নেই। শুধু ইউপি আছে। কাজেই ছবি আঁকার এটাই সময়। আমরা যদি সিস্টেম করতে পারি, একটা সমন্বিত আইন হবে। সেই আইনের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠান চলে আসবে। এতে একটা তফসিল দিয়ে সবগুলো নির্বাচন করতে পারব।’

এই স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘একটা হিসাব করে আমি দেখেছি, গত কমিশন স্থানীয় নির্বাচন করেছে ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে। ১৯ থেকে ২০ লাখ লোক লেগেছে। ২২৫ দিনের মতো সময় লেগেছে। তাই স্থানীয় নির্বাচনে যদি পার্লামেন্টারি সিস্টেম নিয়ে আসি, ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন যদি একই সিস্টেমে করতে পারি, তাহলে খরচ চলে আসবে ৬০০ কোটি টাকার মধ্যে। লোক লাগবে আট লাখ। সময় লাগবে ৪৫ দিন। তাহলে এই সিস্টেমে যাওয়ার জন্য অধ্যাদেশ করে যদি যান, তাহলে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনে যাওয়া সম্ভব। অথবা বর্তমানে যা আছে, তা দিয়ে যদি স্থানীয় নির্বাচন করতে চান, তাহলে পাঁচটা আইন দিয়ে পাঁচটা নির্বাচন করতে হবে। এতে জাতীয় নির্বাচনের আগে তা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত