আরবি ‘হায়া’ শব্দের বাংলা লজ্জা। লজ্জা এমন এক উৎকৃষ্ট মানবীয় বৈশিষ্ট্য, যা মানুষকে পাপ ও কদর্যতা পরিহারে উদ্বুদ্ধ করে। ভালো ও সৎকাজে উৎসাহিত করে। ইমান ও লজ্জা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি অপরটির পরিপূরক। যার লজ্জা কম তার ইমানও ত্রুটিপূর্ণ। কারণ লজ্জা ইমানের অঙ্গ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একদা আল্লাহর রাসুল (সা.) এক আনসারির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তার ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের নসিহত করছিলেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) তাকে বললেন, ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ইমানের অঙ্গ।’ (সহিহ বুখারি ২৪)
নবীজির লাজুকতা : নবী (সা.) খুব লাজুক ছিলেন। কারণ লজ্জাশীলতা এক উৎকৃষ্ট গুণ। আর যেকোনো উৎকৃষ্ট গুণ নবী (সা.)-এর মধ্যে থাকবে এটাই যৌক্তিক। কেমন লাজুক ছিলেন তা নিম্নোক্ত হাদিস থেকেই অনুমেয়। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী (সা.) অন্দর মহলের পর্দানশীন কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি কোনো কিছু অপছন্দ করলে তার চেহারা দর্শনেই আমরা তা বুঝতে পারতাম।’ (আদাবুল মুফরাদ ৬০২)
নির্লজ্জ ব্যক্তি যা ইচ্ছা করতে পারে। মানুষ অনেক সময় আল্লাহর ভয়ে নয়তো মানুষের চক্ষুলজ্জায় পাপ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে। তার ভেতরে ন্যূনতম লজ্জাশীলতা হয়তো আছে, এটাই তার প্রমাণ। কিন্তু যে নির্লজ্জ সে এসব কিছুর তোয়াক্কা করে না। তার দৃষ্টিতে সবকাজ ভালো ও বৈধ। কারণ হাদিসে আছে, আবু মাসউদ উকবা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘নবুওয়াতি কথার মধ্যে মানুষ যা পেয়েছে তাতে এটাও আছে, তুমি নির্লজ্জ হতে পারলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারো।’ (আদাবুল মুফরাদ ৬০০)
লজ্জাশীলতা কল্যাণ বয়ে আনে। লাজুকলতা ইমানের বহিঃপ্রকাশ। কোনো মানুষের মধ্যে লজ্জা থাকা মানে সে একজন মুমিন। কারণ ইমান ও লজ্জার সম্পর্ক মাথা ও দেহের মতো। তাই লজ্জাশীল ব্যক্তি কদর্য ও যাবতীয় অনাচার থেকে দূরে থেকে আল্লাহ প্রদত্ত পুরস্কার লাভে সক্ষম হয়। যা সবচেয়ে বড় কল্যাণ বা সফলতা। লজ্জাশীল ব্যক্তিকে মানুষ শ্রদ্ধা করে। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘লজ্জা মঙ্গলই বয়ে আনে।’ মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, ‘লজ্জার সবটুকু মঙ্গল।’ কিন্তু গুপ্ত সমস্যায় শরিয়তের সমাধান জানার ব্যাপারে লজ্জা করা ঠিক নয়। (যেমন পিরিয়ড, স্বপ্নদোষ ইত্যাদি) (রিয়াজুস সালেহিন ৬৮৭)
লজ্জা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। সুন্দর পোশাকে যেমন দেহের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, ঠিক তেমনই লাজুকলতায় প্রকাশ পায় মুমিনের চারিত্রিক ও আত্মিক উৎকৃষ্টতা। বিপরীতে লজ্জাহীনতায় বৃদ্ধি পায় খারাবি ও কদর্যতা। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা কোনো বস্তুর কেবল কদর্যতাই বৃদ্ধি করে। আর লজ্জা কোনো জিনিসের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে।’ (আদাবুল মুফরাদ ৬০৪)
