দেশে জেরার বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন ডলার

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৫৮ এএম

জাপানের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শক্তি কোম্পানি জাপানস এনার্জি ফর অ্যা নিউ এরা [জেরা] বাংলাদেশে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এ কোম্পানির বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা কমবেশি ৬১ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে জাপান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশে ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। জাপানিজ এই প্রতিষ্ঠান জেরা কো. ইন্টারন্যাশনাল তাদের অধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে এলএনজি সরবরাহ করে। জেরা এই খাতে প্রায় ৩৫ এমটিপিএ এলএনজি সরবরাহ করে। যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ছয়টি আপস্ট্রিম প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা ১৫টি দেশে এলএনজি সরবরাহ করছে। ২০১৯ সালে জাপানের জেরা ভারতীয় রিলায়েন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে মেঘনাঘাট ৭১৮ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টের অধিগ্রহণ করে। এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসভিত্তিক আইপিপি। প্রকল্পটিতে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এর উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। প্রকল্পে বিনিয়োগকারী অন্যান্য ব্যাংকগুলো হলো মিজুহো ব্যাংক, এসএমবিসি, এমইউএফজি, সোসাইটে জেনারের। প্রকল্পের গ্যাস পাইপলাইন বা পাওয়ার গ্রিডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো বির্নিমাণ এবং গ্যাসলাইন সঞ্চালন করতে ধাপে ধাপে বিলম্বের মুখে পড়ে। এই সময়ে সামিট এবং ইউনিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাইপলাইন সংযোগ এবং গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেলেও জেরা-এর প্রকল্পটি ঠিকঠাক সরকারের যথাযথ সহায়তা পায়নি। ফলে জেরা নিজ উদ্যোগ এবং খরচে শাখা পাইপলাইন তৈরি করতে হয়। পূর্ণাঙ্গ লাইন এবং সাইডলাইনের কাজ শেষ হওয়ার পর গ্যাস সরবরাহ করা হয়। নানা ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে জারার প্রকল্পটি ৮ মাস আগে চালু হয়েছে। তবে প্রকল্প পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পেতে হিমশিম খাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জেরা মেঘনাঘাট পাওয়ারের হেড অব কন্ট্রাক্টস অ্যান্ড কমার্শিয়াল স্মিতেশ বৈদ্য বলেন, ‘স্পন্সর হিসেবে জেরা-এ প্রকল্পে নানাভাবে সহায়তা করছে। সেই কারণেই এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। আমরা এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম অর্জনের জন্য মন্ত্রণালয়, বিপিডিবি এবং পেট্রোবাংলার কাছ থেকে সহায়তার আশা করেছি। অত্যাধুনিক সুবিধা, সবচেয়ে দক্ষ টারবাইন এবং কম শুল্ক-সহ, জেরা মেঘনাঘাট প্রকল্প বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার জন্য একটি বড় উদারণ সৃষ্টি করবে।’ জেরা মাতারবাড়ীতে এলএনজি টার্মিনাল করতে আগ্রহী নতুনভাবে আলোকিত মাতারবাড়িতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করতে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে জেরা। উল্লেখ্য জারা; জাপানে ১১টি এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনা করে, যার সবগুলোই জমিভিত্তিক। তারা বাংলাদেশে জমিভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প, পুনঃনবায়নযোগ্য প্রকল্প উন্নয়ন (সৌর, বায়ু), বিকল্প শক্তি (হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া) এবং এলএনজি সরবরাহে ভবিষ্যতের বিনিয়োগে আগ্রহী। এই ধরনের বিনিয়োগ আগামী ৫-১০ বছরে প্রায় ২-৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এফডিআই হবে। বিজ্ঞপ্তি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত