রয়টার্সকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার আহ্বান সিএমপির

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১২ এএম

চট্টগ্রামে সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার ও জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে সিএমপি বলেছে, পুলিশের সঙ্গে কথা না বলেই রয়টার্স মনগড়া বক্তব্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা সাংবাদিকতার নীতিমালা পরিপন্থী। ভবিষ্যতে রয়টার্সসহ সব গণমাধ্যম এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে, নিহত আইনজীবীকে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষের আইনজীবী বলা হলেও বাস্তবে তিনি তার আইনজীবী ছিলেন না। প্রতিবেদনটি পরে ভয়েস অব আমেরিকাসহ আরও অনেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার লিয়াকত আলী খানকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

সিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, রয়টার্স বা কোনো সাংবাদিক এ বিষয়ে উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) লিয়াকত আলী খানের সঙ্গে কথা বলেননি। ঘটনার সময় তিনি আদালত প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজে দায়িত্বরত ছিলেন। লিয়াকত নামে চট্টগ্রামে চারজন কনস্টেবল আছে উল্লেখ করে তারাও কাউকে কোনো বক্তব্য দেননি বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সিএমপির বলেছে, কারও বক্তব্য গ্রহণ না করেই নিজেদের মনগড়া বক্তব্যকে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য বলে চালিয়ে দেওয়া সাংবাদিকতার নীতিমালা পরিপন্থী। ভবিষ্যতে রয়টার্সসহ সব গণমাধ্যম এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এদিকে গতকাল ওই সংবাদের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে রয়র্টাসকে চিঠি পাঠানো হলে প্রতিবেদনটিতে সংশোধনের পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর একটি ভিডিও সরিয়ে নিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমটি। কিন্তু ভুল ও বিভ্রান্তিকর খবর এবং ভিডিও প্রচারের জন্য তারা কোনো দুঃখ প্রকাশ করেনি। তবে কৌশলে তারা প্রতিবেদনের একদম নিচে প্রতিবেদনটি সংশোধনের কারণ হিসেবে ভিডিও সরানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছে। কিন্তু কেন প্রতিবেদনটি সংশোধন এবং ভিডিও সরিয়ে নেওয়া হলো সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি সেখানে।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল রয়টার্সের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং ওই প্রতিবেদনের প্রতিবেদক রুমা পালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তার সাড়া মেলেনি।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, কোনো শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ করতে শতভাগ তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা দরকার। সেজন্য কিছুটা সময় নিয়ে নানা উপায়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের সরকারি আইনজীবীসহ ছয়জন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিশ্চিত করেছেন নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী ছিলেন না। সেখানকার পিপি ও এপিপির (সরকারি আইনজীবী) একটি তালিকা সংগ্রহ করেছি, যেখানে সাইফুল ইসলামের নাম পাওয়া যায়নি। বেলা ১১টার দিকে আমরা ওকালতনামা (বাদী, বিবাদী উভয়পক্ষের আইনজীবীর স্বাক্ষরযুক্ত নথি) পেলাম। যাতে প্রমাণিত হয়, তিনি (নিহত আইনজীবী) ওই হিন্দু নেতার আইনজীবী ছিলেন না।’

শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিবেদনটি সংশোধনীর জন্য রয়টার্স সম্পাদককে চিঠি পাঠানোর পর কয়েক মিনিটের মধ্যে তারা সংশোধিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে জানান শফিকুল।

তিনি জানান, রয়টার্সে প্রচারিত একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও সরানোর আবেদন জানানোর পর সেটিও তারা সরিয়ে নিয়েছে। ভয়েস অব আমেরিকার রয়টার্সের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার কারণে তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম পুলিশের উপপুলিশ কমিশনারকে উদ্বৃত করে যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে সেটি যাচাইয়ের সময় দেখা গেল রয়টার্স ওই কর্মকর্তার সঙ্গে কথাই বলেনি। মঙ্গলবার কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে তার কথাই হয়নি। তাকে তার ফোনের কললিস্ট চেক করতে বলার পর তিনি একই জবাব দিলেন।’

বিষয়টি আরও ভালোভাবে যাচাইয়ের জন্য প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লিয়াকত আলী নামে চট্টগ্রাম পুলিশে আর কোনো কর্মকর্তা নেই। তবে এই নামে চারজন কনস্টেবল রয়েছেন। কিন্তু তারা কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেননি।

শফিকুল আলম লিখেছেন, যেকোনো মিথ্যা ও ভুয়া খবর ছড়ানো খুবই সহজ। কিন্তু এটি যাচাই করতে সময় লাগে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত