যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হলেন নোভা

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:২৫ এএম

দুই দশকেরও বেশি সময়ে ঢাকাই শিল্পীদের অনেকেই অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে দেশের বাইরে স্থায়ী হয়েছেন। যদিও শিল্পীদের দেশের বাইরে স্থায়ী হওয়া নতুন কিছু নয়। নব্বই দশকের শাবানা, বিপাশা হায়াত, শাবনূর থেকে শুরু করে এই সময়ের অনেকেই রয়েছেন। তবে অতীতের তুলনায় সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের শোবিজ তারকাদের বিদেশ ঘোরার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। কেউ যাচ্ছেন স্টেজ শো করতে, কেউ বা যাচ্ছেন ব্যক্তিগত কাজ বা নেহাতই ঘুরতে। এর মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা আর দেশে ফিরে আসেন না। থেকে যান প্রবাসেই। সেই সংখ্যাও নেহাতই কম নয়।

সেই তালিকায় রয়েছেন টনি ডায়েস-পিয়া ডায়েস দম্পতি, নওশীন-হিল্লোল দম্পতি, কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন, রিজিয়া পারভিন, দিনাত জাহান মুন্নি, বাদশাহ বুলবুল, সায়েরা রেজা, ব্যান্ড তারকা বিপ্লব, চিত্রনায়ক কাজী মারুফ, চিত্রনায়িকা রাত্রি, জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান, রোমানা, শ্রাবন্তী, মোনালিসা, তমালিকা কর্মকার, বন্যা মির্জা, দিলরুবা ইয়াসমিন রুহি, নোভা ফিরোজ, মিলা হোসাইন, পিয়া বিপাশা, আর্শিনা প্রিয়া, আমব্রিন সারজিন, ঈশানা, ইশিকা খান, বেনজির ইসরাত, শিরিন বকুল, রেহানা রাখি, নির্মাতা শামীম শাহেদসহ অনেক তারকা, যারা এখন বিশে^র বিভিন্ন দেশে স্থায়ীভাবে বাস করছেন।

এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন অভিনেত্রী নোভা ফিরোজ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। এরপর আর ফেরেননি। দেশটিতে পাড়ি জমানোর ছয় মাসেই নাগরিকত্ব পান এই অভিনেত্রী। এরপর সেখানেই নিজের বসতি গড়ে তুলেন। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে থেকেই চালাচ্ছেন তার প্রোডাকশন হাউজ ‘টোস্টার প্রোডাকশন’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিউ ইয়র্ক থেকে মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে নোভা ফিরোজ বলেন, ‘বলতে পারেন নিজের জন্য, বিশেষ করে আমার ছেলের জন্যই এখানে আসা। যেহেতু ওর ইচ্ছে ছিল দেশের বাইরে পড়াশোনা করার, সে বিষয় মাথায় রেখেই এখানে চলে আসা। তার উন্নত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই। ওর রোবটিকস নিয়ে পড়ার ভীষণ ইচ্ছে, এখানে এসে ভর্তি হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বেশ ভালো আছি বলা যায়।’

অভিনেত্রীর বিদেশ পাড়ির প্রায় দুই বছর হতে চলল এবং খুব অল্প সময়েই দেশটির নাগরিকত্ব পেয়ে যান, মাত্র ছয় মাসেই। বললেন, আমি ২০২২ সালে ডিসেম্বরে এখানে আসি এবং জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্থাৎ গ্রিন কার্ড পেয়ে যাই। এতটা অল্প সময়ে সবকিছু হয়ে যাবে ভাবিনি। যেহেতু সুযোগ ছিল, তাই চলে এসেছি।

সেখানে নিজের প্রোডাকশন চালানোর পাশাপাশি আইটি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন নোভা ফিরোজ। সামনে আইটি নিয়েও কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে তার। ‘মৃধা বনাম মৃধা’ খ্যাত এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার নিজের যে প্রোডাকশন হাউজ, সেটাই এখানে চালাচ্ছি। হাউজ থেকে বিভিন্ন কাজ করছি। যেমন একটা নতুন সিনেমার কাজ শেষ করলাম, নাটকও করেছি। তাছাড়া ওভিসি তো আছেই। যেহেতু আমরা বাঙালি, আমাদের কমিউনিটি নিয়েই কাজ করছি, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন বাংলাভাষীদের নিয়ে। সামনে হয়তো অন্য ভাষীদের নিয়েও কাজ করব। শুরু করেছি, দেখা যাক কতদূর কী করতে পারি। পরিকল্পনা আছে অনেক বড় কিছু করার।’ দেশ ত্যাগ করলেও দেশের প্রতি মায়াটান রয়েছে বলেও জানালেন নোভা। সুযোগ পেলে মাঝেমধ্যেই দেশে এসে ঘুরে যাবেন। অভিনেত্রী বলেন, ‘নিজ দেশ ছেড়ে অন্য একটা দেশে চলে আসাটা সহজ নয়। প্রথম দিকে ভীষণ খারাপ লাগত। নিজেদের সব মানুষকে ছেড়ে অনেক দূরে গিয়ে থাকা, ভাবলেই খারাপ লাগত। যখন ছেলের কথা চিন্তা করি, তখন মনে হয় যে, যা হয় ভালোর জন্যই হয়, হবেও হয়তো।’

নোভা ফিরোজ ২০০৫ সালে ‘প্রাণ ডাল’-এর বিজ্ঞাপন দিয়ে মডেলিং শুরু করেন। এরপর ২০০৬ সালে ‘ইউ গট দ্য লুক’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর ‘প্রেম ও ঘামের গল্প’ নাটক দিয়ে অভিনয়ে নাম লেখান। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পুষ্প তোমার অপেক্ষায়’, ‘নষ্ট সুখ’, ‘সমুদ্রে চন্দ্রগ্রহণ’, ‘ নিভৃত নির্জনে’। অভিনয়ের বাইরে তিনি একজন উপস্থাপিকাও। ২০২১ সালে তিনি নাম লেখান সিনেমাতেও। ‘মৃধা বনাম মৃধা’ নামে এই সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য তুমুল প্রশংসিত হন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত