স্বাস্থ্যকেন্দ্রই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৪২ এএম

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থায়ী জায়গা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কালিয়া ইউনিয়ন পরিবার ও পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশেই ফেলা হয় স্থানীয় বড়চওনা হাটবাজারের ময়লা-আবর্জনা। দুর্গন্ধে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, চিকিৎসকসহ স্থানীয়দের। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিজেই এখন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বড়চওনা হাটের ব্যবসায়ীরা ঝুড়িভর্তি ময়লা-আবর্জনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একেবারে কাছে ফেলে যাচ্ছেন। ময়লার স্তূপে পলিথিন ও ডাবের খোসায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়। প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটের দিন। ওই দুদিন সবচেয়ে বেশি ময়লা জমে। সব উচ্ছিষ্ট এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশেই ফেলা হয়। যে কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে জমেছে ময়লার স্তূপ দুর্গন্ধ, রোগ-জীবাণুসহ এডিস মশার উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এই স্থানটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যেভাবে দিনের পর দিন ময়লা ফেলা হচ্ছে, তাতে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগবালাই ছড়ানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকায় দিনরাত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেয়াল ঘেঁষেই মূত্রত্যাগ করতে দেখা যায় পথচারীদের, যা অতিরিক্ত দুর্গন্ধ তৈরি করে। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনের আবর্জনার ভাগাড়। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানসহ দ্রুত অপসারণের দাবি জানান তারা।

চিকিৎসা নিতে আসা রমেছা বেগম বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এখানে ময়লার ভাগাড় সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনিটরিং করলে এমনটা হতো না।’

ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘হাসপাতালের সামনে এমন ময়লার ভাগাড় চিন্তাই করা যায় না। ময়লার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে কেউ এক মিনিটও দাঁড়াতে পারে না। এ ছাড়া দুর্গন্ধের কারণে আমরা ব্যবসায়ীরাও ঠিকমতো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছি না।’

বড়চওনা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নূরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুক, এখানে এসে মানুষ দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে চিকিৎসা নিক আমিও চাই না। তবে বিকল্প কোনো জায়গা না থাকায় বাজারের ময়লা ফেলা হচ্ছে। শিগগিরই এসব ময়লা অপসারণ করা হবে।’

বড়চওনা হাটের ইজারাদার আবু সাঈদ মিয়া বলেন, ‘অন্যত্র ময়লা ফেলার জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে ময়লাগুলো দ্রুতই অপসারণ এবং পুড়িয়ে ফেলা হবে।’

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আশিকুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশেই লোকজন ময়লা ফেলে যাচ্ছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক-অটোবাইক আড়াআড়ি করে রাখায় চলাচলেও দারুণ ব্যাঘাত ঘটে। ময়লা থেকে চরমভাবে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশামাছির উপদ্রবে এখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। যতক্ষণ সেবা দিচ্ছি, খুব কষ্ট হচ্ছে। দুর্গন্ধে টেকাই দায়।’

সখীপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাশাহেদ হাসান বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে থাকা জায়গাটি ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়ায় আশপাশের পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। যার ফলে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীসহ স্থানীয়দের। বিষয়টি জেলা ও উপজেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত