ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাবে সোনার চালান। গোপন এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খুলনার লবণচরা থানা এলাকার সাচিবুনিয়া মোড়ে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। রাত ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে আবদুল আউয়াল নামের এক যুবককে আটক করা হয়। কিন্তু থানায় নিয়ে তার দেহ তল্লাশি করে কিছুই পাওয়া যায় না। পরে মহানগরীর খুলনার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে এক্সরে করালে তার পেটের মধ্যে দেখা মেলে সোনার বার। পরে বিশেষ কায়দায় পরপর আটটি স্বর্ণের বার বের করে দেন আউয়াল। চলতি বছর গত ১৩ নভেম্বরের ঘটনা এটি।
শুধ্ ুএ ঘটনাই নয়, ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে সাতক্ষীরা, যশোর ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতে পাচার হচ্ছে সোনা। গত দুবছরে পাচারের সময় ঢাকা-খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের লবণচরা থানা এলাকা থেকে আটটি অভিযানে ৫৬ পিস সোনার বার উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মাঝেমধ্যে সোনার দুই-একটি চালান ও বাহক আটক হলেও, ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে মূল হোতারা। এসব অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যও জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কেএমপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ৫ অক্টোবর ৯ দশমিক ১১ বর্গ কিলোমিটার আয়াতন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় লবণচরা থানা। এ থানার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঢাকা-খুলনা-সাতক্ষীরা ও ঢাকা-খুলনা-যশোর মহাসড়ক। দুবছরে লবণচরা থানার পুলিশ এই মহাসড়কে তাদের অংশ থেকে আটটি অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে ৫৬ পিস সোনার বার উদ্ধার হয়। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ১৫ পিস ও ৭ সেপ্টেম্বর ৪ পিস উদ্ধার হয়। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি ৩ পিস, ১৫ জানুয়ারি ৩ পিস, ২০ এপ্রিল ১২ পিস, ২ মে ৭ পিস, ৩০ অক্টোবর ৪ পিস ও ১৩ নভেম্বর আট পিস সোনার বার উদ্ধার হয়। অর্থাৎ দিনে দিনে এ পথে ভারতে সোনা পাচার বাড়ছে ।
লবণচরা থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) ইউসুফ আলী জানান, বিদেশ থেকে আনা সোনা ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পাচার হয় ভারতে। সোনার বার বহনকারীরা ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে যাত্রীবাহী বাস বা পরিবহনে যাতায়াত করে থাকেন। তবে পাচারে পায়ুপথ, জুতার তলাসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে পাচারকারীরা। তাই কখনো কখনো তাদের ধরা মুশকিল হয়ে পড়ছে।
এ প্রসঙ্গে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মূলত ঢাকা থেকেই সোনার চালান বেশি আসে। পাচারে বহুবার হাতবদল হয়। ফলে মূলহোতা শনাক্ত মুশকিল হয়ে পড়ে। তবে চোরাচালান আটকের পর মামলা হয়। মামলার পর চোরাকারবারে যাদের সংশ্লিষ্টতা ও নাম ঠিকানা পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বার বার একই এলাকায় সোনার চালান উদ্ধার হচ্ছে। সুতরাং এটি সোনা পাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। তবে যে পরিমাণ সোনা পাচার হচ্ছে, আটক হচ্ছে সে তুলুনায় খুব কমই। চোরাকারবারের মাধ্যমে এভাবে বিদেশ থেকে আসা ও দেশের সোনা পাচার হওয়ায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। তাই শুধু বাহকদের আটক করলে হবে না, সোনা পাচারের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
