‘ক্যাডার’ শব্দ বাদ দিতে সুপারিশ  করবে কমিশন

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৭ এএম

সিভিল সার্ভিসে ‘ক্যাডার’ শব্দটি নেতিবাচক মনে করে তা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করবে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যেন রাজনৈতিক আবহ না থাকে সেজন্য জনপ্রশাসনে কাঠামোগত পরিবর্তন করাসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কমিশন।

গতকাল রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১২তম বৈঠক শেষে কমিশনের সদস্যরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য তুলে ধরেন।

আমলারাই আমলাদের বেশি ক্ষতি করছে উল্লেখ করে সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরী বলেন, ‘জনপ্রশাসনে কাঠামোগত ও মানসিক পরিবর্তন দরকার। সেই সুপারিশ করবে কমিশন। যেন রাজনৈতিক আবহ সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে না থাকে। এর সঙ্গে সংবিধানসহ অন্যান্য সংস্কারও সংশ্লিষ্ট। 

তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা দূর করে, মানুষকে সেবা দেওয়ার মনোভাব সৃষ্টিতে, জনপ্রশাসনে কাঠামোগত ও মানসিক পরিবর্তনের সুপারিশ করবে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে জনগণের মতামত নেওয়া।

মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান বলেন, ‘প্রশাসন নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ। বিশেষ করে বিসিএস। এটাকে নানা কারণে এখন মনে করা হয় ক্যাডার। এই ক্যাডার শব্দটির সঙ্গে নেগেটিভিটি (নেতিবাচক ধারণা) থাকে। এজন্য জনপ্রশাসনের সংস্কার কমিশন অনেকগুলো সংস্কারের প্রস্তাব দেবে। এর মধ্যে একটা থাকবে, ক্যাডার শব্দটি বাদ দিয়ে যার যে সার্ভিস, যেমনÑ সিভিল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল সার্ভিস হেলথ, সিভিল সার্ভিস অ্যাগ্রিকালচার এরকম। এটা আমাদের বড় সংস্কার। এতে আমরা মনে করি, অনেকের মানসিক শান্তি আসবে। এটা করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি সেবার ব্যাপারে জনসাধারণের অসন্তোষ রয়েছে। নেতিবাচক ধারণা আছে আমলাতন্ত্র নিয়ে। এখনো ভূমি রেজিস্ট্রি ও এসিল্যান্ড অফিসে ঘুষ দেওয়া-নেওয়া হচ্ছে। পাবলিক হেয়ারিংয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে দুর্নীতি দূর করতে কিছু প্রস্তাবনা দেওয়া হবে।

‘রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতি এমন লেভেলে যে, কোনো অভিযোগ নেই। শেয়ারিংটা খুবই সায়েন্টিফিক। কারও কোনো অভিযোগ নেই। দিচ্ছে ও নিচ্ছে। বরং বলে আগে স্যারের চেয়ে আপনি কম নিচ্ছেন, যোগ করেন তিনি।

জনপ্রশাসন সচিব বলেন, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসা হবে। মানুষ যে পরিবর্তন চায়, তা করতেই এই সরকার এসেছে। এতদিনের অনিয়মের পেছনে দোষ সরকারি কর্মকর্তাদেরও আছে। সামনের দিনে আরও পরিবর্তন দেখা যাবে।

ডিসি শব্দটি নিয়েও অনেকের আপত্তি আছে সেখানে পরিবর্তন হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এরকম আমরা অনেক জায়গা পেয়েছি, যেমন জনপ্রশাসন না বলে জনসেবা বলা যায় কি না, জেলা প্রশাসক ব্রিটিশদের সৃষ্টি। এই শব্দের বাইরে আরও অনেক শব্দ আছে, যেমন কালেক্টর, ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেট আছে, এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষ জানতে চায়। আমরা এসব নিয়ে সুপারিশ দেব। তবে সরকার সেটাই নেবে, যেটা দেশের জনগণ চায়।’

শুধু শব্দ পরিবর্তন করে কোনো পরিবর্তন হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, আসলে মানুষের মন ও মস্তিষ্কের পরিবর্তন করতে হবে। এই দুই জায়গার পরিবর্তনটা আগে করতে হবে। সামনে আরও পরিবর্তন দেখতে পারবেন।

ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষ অনলাইনে কমিশনের প্রশ্নের জবাব দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সংস্কার কমিশনের সদস্য ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী হাসান জানান, সরকারি কর্মকর্তা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন না। জনগণের হয়ে কাজ করবেন। সেই সুপারিশ তারা করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত