দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে কোরআন হাদিসের নির্দেশনা

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৩৮ এএম

বিয়ে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি বিশেষ দয়া। সম্পদ ও প্রাচুর্য বৃদ্ধিতে বিয়ের বিকল্প নেই। বিয়ের দ্বারা দুটি সম্পর্কের মিলন হয়। আর স্বামী-স্ত্রী পরিণত হয় একে অপরের পোশাকরূপে। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।’ (সুরা বাকারা ১৮৭) বিয়ের পরবর্তী দাম্পত্য জীবন সুখময় ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে প্রয়োজন কোরআন-হাদিস অনুসরণ করা। কোরআন-হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে কয়েকটি দিকনির্দেশনা উল্লেখ করা হলো।

স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ করা : প্রকৃত ইমানদার অবশ্যই তার স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ করবে। কথায়, কাজে ও চলাফেরায় সৌন্দর্য রক্ষা করবে। স্বামী যেমন স্ত্রীর কাছ থেকে ভালো ব্যবহার আশা করে, তেমন ব্যবহারই স্ত্রীর সঙ্গে করবে। রাসুল (সা.)  বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম হলো ওই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আমি আমার পরিবারের কাছে উত্তম।’ (তিরমিজি)

স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করা : ইসলামে নারীরা সর্বোচ্চ সম্মানে সমাসীন। ইসলাম তাদের অধিকার আদায়ে জোর দিয়েছে। শরিয়তে মোহর নারীদের জন্য একটি প্রাপ্য সম্মানী ও হক। তাই ইসলাম পুরুষকে নারীদের নির্ধারিত মোহর প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা নারীদের মোহর স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে প্রদান করো। সন্তুষ্টচিত্তে তারা মোহরের কিছু অংশ ছেড়ে দিলে তোমরা তা স্বচ্ছন্দে ভোগ করো।’

(সুরা নিসা ৪)

স্ত্রীর সঙ্গে ইনসাফ করা : ইনসাফ ও ন্যায়-নীতির প্রশ্নে ইসলাম শ্রেষ্ঠ। ইসলাম স্ত্রীর সঙ্গে ইনসাফ ও ন্যায় আচরণ করার জোর তাগিদ দিয়েছে। তাই স্বামীর উচিত হলো, স্ত্রীর যাবতীয় সুবিধা-অসুবিধার প্রতি খেয়াল রাখা। অন্যথায় পরকালে মহান আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।

স্বামীর আহ্বানে সাড়া দেওয়া : আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা করা হারাম। তবে দ্বিতীয় কেউ সেজদার প্রাপ্য হলে স্বামীই অগ্রাধিকার পেত। তাই প্রত্যেক নারীর উচিত স্বামীকে অমূল্য রতœ মনে করা। কোনো ওজর-অসুবিধা না থাকলে স্বামীর আহ্বানে সাড়া দেওয়া। স্বামীর আহ্বান অস্বীকারকারী নারীর প্রতি রয়েছে ফেরেশতাদের অভিসম্পাত।

স্বামীর সঙ্গে সদাচরণ করা : মানুষের উত্তম ও অনুত্তম পরিমাপের অন্যতম মাপকাঠি হলো তার চরিত্র। যার চরিত্র যত সুন্দর সে মানুষের কাছে তত প্রিয়। ইসলাম স্ত্রীকে তার স্বামীর সঙ্গে সর্বদা সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছে। আর দুর্ব্যবহারকারীর জন্য রয়েছে জান্নাতের হুরদের অভিশাপ। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখনই কোনো নারী তার স্বামীকে দুনিয়াতে কষ্ট দিতে থাকে, তখনই (জান্নাতের) হুরদের মধ্যে তার সম্ভাব্য স্ত্রী বলে, (হে অভাগিনী!) তুমি তাকে কষ্ট দিও না। আল্লাহ তোমায় ধ্বংস করুক! তিনি তোমার কাছে একজন মেহমান। অচিরেই তিনি তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবেন।’ (তিরমিজি)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত