দাসপ্রথা বিলোপে ইসলামের ভূমিকা

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৩ এএম

আজ আন্তর্জাতিক দাসত্ব বিলোপ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে। ১৯৪৯ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দাসত্ব বিলোপ করতে বিশ্বব্যাপী দাসপ্রথা ও ব্যবসা নিষিদ্ধকরণের ওপর কনভেনশন গৃহীত হয়। এজন্য আজকের এদিনটি বিশ্বব্যাপী দাসত্ব বিলুপ্তি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানব পাচার, জবরদস্তিমূলক শিশুশ্রম, বলপ্রয়োগে বিয়ে এবং যুদ্ধে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৭৯১ সালে বর্তমান হাইতি ও ডোমিনিকান রিপাবলিকান অঞ্চলে প্রথমে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীকালে ব্রিটেন ১৮০৭ সালে ও যুক্তরাষ্ট্র ১৮০৮ সালে তাদের আফ্রিকান দাসদের মুক্তি দেয়। পরে যুক্তরাজ্য ১৮৩৩ সালে, ফ্রান্স ১৮৪৮ সালে ও যুক্তরাষ্ট্র ১৮৬৫ সালে আইন করে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে। এখনো বিশে^র ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ জোরপূর্বক শ্রম, দাসত্ব ও দাসত্ব সংশ্লিষ্ট প্রথার কাছে বন্দি। সমাজবিজ্ঞানীদের অভিমত হচ্ছে, দাসপ্রথার ভয়াবহতা এখন না থাকলেও এর রূপান্তর ঘটেছে এবং সমাজে তা এখনো বিদ্যমান।

দাসত্ব বলতে বোঝায়, কোনো মানুষকে জোর করে শ্রম দিতে বাধ্য করা এবং এ ক্ষেত্রে কোনো মানুষকে অন্য মানুষের ‘অস্থাবর সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য করা। এই দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ব্যক্তিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই স্থান বা মালিকানা পরিবর্তন হয়ে যায়। তাদের শ্রমের কোনো মজুরিও নেই। অতীতে কোনো কোনো সমাজে নিজের দাসকে হত্যা করাও আইনসংগত ছিল। সেসব বর্বরতা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি, এটা ঠিক। তবে ক্রীতদাস প্রথার যে আধুনিক রূপান্তর, তার থেকে মুক্তির উপায় বের করতে হবে।

দাসপ্রথার উদ্ভব কীভাবে হলো, তার কোনো প্রামাণ্য দলিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে এতটুকু বলা যায়, সম্ভবত যুদ্ধজয়ের সামগ্রীরূপেই দাস শ্রেণির উদ্ভব হয়েছিল। দাসদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার ছিল না। ইসলাম আগমনের পর দাসপ্রথার প্রচলন কমতে শুরু করে। বিভিন্ন অপরাধের কাফফারা হিসেবে দাসমুক্ত করার বিধান রাখা হয়। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে দাসমুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) দাস-দাসীর অধিকার প্রদান করেন। তিনি দাসপ্রথা উচ্ছেদে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে মুসলিম পুরুষ কোনো মুসলিম পুরুষকে (গোলাম) মুক্ত করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি অস্থির বিনিময়ে তার এক একটি অস্থিকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন। আর যেকোনো মুসলিম নারী কোনো মুসলিম দাসীকে মুক্ত করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি অস্থির বিনিময়ে তার এক একটি অস্থিকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত