মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা লাশটি হারিছ চৌধুরীর

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৫ এএম

মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা লাশটি বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরীর। কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে ডিএনএ টেস্টের ফল হারিছ চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলেছে। এখন পরিবারের পছন্দমতো কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা যাবে বলে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

ডিএনএ প্রতিবেদন দাখিলের পর গতকাল বুধবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিম চৌধুরীর করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মরদেহ কবর থেকে তুলে ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দিয়েছিল। ২০২১ সালে ঢাকার অদূরে সাভারে মাহমুদুর রহমান নামে তার লাশ দাফন করা হয়।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহদীন চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান। ব্যারিস্টার মাহদীন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডিএনএ টেস্ট নিয়ে সিআইডি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সাভারে মাহমুদুর রহমান নামে যাকে দাফন করা হয়েছে তিনি হারিছ চৌধুরী এবং রিটকারীর (সামিরা তানজিম চৌধুরী) জৈবিক পিতা। আদালত আদেশে বলেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী তার মরদেহ দাফন করা যাবে।’

২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর হারিছ চৌধুরী সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দর্পনগর হয়ে জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান বলে তখন খবর আসে। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তিনি অভিযুক্ত হলে ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়। এরপর ২১ আগস্ট মামলায় ২০১৮ সালে তার যাবজ্জীবন সাজার রায় হয়। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার সাত বছরের কারাদন্ড হয়। ২০২২-এর ১৫ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরার বরাতে বলা হয়, করোনা আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হারিছ চৌধুরী মারা যান। একই দৈনিকে ২০২২ সালের ৬ মার্চ আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, হারিছ চৌধুরী ভারত বা লন্ডনে যাননি। তিনি মৃত্যুর আগে দীর্ঘ ১৪ বছর দেশেই ছিলেন এবং ১১ বছর ছিলেন ঢাকার পান্থপথের একটি বাসায় মাহমুদুর রহমান নামে। এই নামে তাকে সাভারের জালালাবাদ এলাকার একটি মাদ্রাসায় দাফন করা হয়। রিট আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গোয়েন্দা বিভাগ তার (সামিরা) বাবার মৃত্যুকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এ নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে সেজন্য এ রিট আবেদনটি করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত