এবার স্ত্রীর ভারতীয় শাড়ি পোড়ালেন রিজভী

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৩৭ এএম

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং আগরতলায় উপ-হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে ‘ভারতীয় পণ্য বর্জনে’র আহ্বান জানিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নিজের স্ত্রী আরজুমান আরা বেগমের ভারতীয় শাড়ি নিজের হাতে ছুড়ে ফেলে দেন। পরে নেতাকর্মীরা ওই শাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাধারণ চিকিৎসক সমাজের উদ্যোগে ‘দেশীয় পণ্য কিনে হও ধন্য’ ব্যানারে ভারতীয় পণ্য বর্জন ও দেশি পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনায় ঘটে। এর আগে চলতি বছরের ২০ মার্চ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে ভারত থেকে নিজের জন্য কিনে আনা কাশ্মীরী শাল ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন রিজভী। কার্যালয়ের সামনে শালটি ছুঁড়ে ফেলে রিজভী ঘোষণা দেন, আজ থেকে ভারতের কোনো পণ্য ব্যবহার করবেন না তিনি। পরে নেতাকর্মীরা শালটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই সময় রিজভী বলেন, ‘ভারতীয় পণ্য বর্জন ও ইন্ডিয়া আউট প্রোগ্রামে বিএনপি সরব থাকবে। বিভিন্ন সংগঠন ও দলের এই ক্যাম্পেইনে বিএনপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, ‘একটি পুরনো শাড়ি আমার বাসায় আমার স্ত্রীর ছিল, সেটি আমার স্ত্রী আমাকে দিয়েছে। সেটি ইন্ডিয়ান শাড়ি। আমি বলেছি আজকে এটা দিয়ে দাও... সে এটা দিয়ে দিয়েছে। এই সেই ইন্ডিয়ান শাড়ি। আমার স্ত্রী সে নিজেই এই শাড়ি দিয়েছে। এটা আজকে আপনাদের সামনে আমি ছুড়ে ফেললাম। আমরা টাঙ্গাইলের শাড়ি পরব, আমরা রাজশাহীর সিল্ক পরব, আমরা কুমিল্লার খদ্দর পরব।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা একটু দেবেন আপনাদের ওপর মুখাপেক্ষী থাকব এটা ভাবার কারণ নেই।’

জনগণের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘ওরা যে বাংলাদেশকে লুণ্ঠন করার চেষ্টা করেছে, ওরা যে বাংলাদেশের পতাকা পুড়িয়েছে, আমাদের মর্যাদাহানি করার চেষ্টা করেছে আমরা ভারতের পতাকাকে লাঞ্ছিত করব না, আমরা আরেকটা স্বাধীন দেশের মর্যাদাকে ছোট করব না, আমরা প্রত্যেক জাতির যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সেটিকে অসম্মান করব না। আমরা ওদের মতো ছোটলোকি করব না। আমরা ওদের দেশের পতাকাকে সম্মান করব কিন্তু ওদের পণ্য বর্জন করব।’

ভারতীয়দের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে রিজভী বলেন, ‘তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছ তোমরা আমাদের পছন্দ করো না। তারপরও তোমাদের জিনিস আমাদের কিনতে হবে? বাংলাদেশের মানুষ তো মাথানত করার মানুষ না। আমরা এক বেলা খেয়ে থাকব তারপরও আমরা মাথানত করব না।’

রিজভী বলেন, ‘তারা নাকি বলে ভারতের অনেক সাংবাদিক, অনেক রাজনৈতিক নেতা তারা বলেন যে, আমাদের (ভারতে) এখানে না এলে আপনাদের (বাংলাদেশের মানুষের) চিকিৎসা হয় না। আমি প্রশ্ন করি, আরে আপনারা কি বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেন, আপনারা কি বিনা টাকায় এক কাপ চা খাওয়ান। এই নজির তো নাই আপনাদের। বাংলাদেশের লোক ডলার খরচ করে ওখানে গিয়ে। এখন কলকাতার নিউ মার্কেট বন্ধ, দোকান পাট বন্ধ সেখানে আর কোনো খরিদদার নেই। আমাদের ডলারে বাজার সদাই কেনা হতো।’ এ সময় বাংলাদেশ সরকার আগরতলায় ভিসা বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।

ভারতীয় পণ্য বর্জনের এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্য সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাহিদুল কবির, জাহাঙ্গীর আলম, তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত