এবার বছরের প্রথম দিনে বই উৎসব হচ্ছে না

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৪৬ এএম

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বই উৎসব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেন, প্রাথমিকের নতুন পাঠ্যপুস্তকে থাকছে জুলাই-আগস্টের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি। তবে বই ছাপাতে কিছুটা দেরি হলেও প্রাথমিকের বই জানুয়ারির মধ্যেই বিতরণ করা সম্ভব হবে। গতকাল রবিবার খুলনা বিভাগের বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিবছর ১ জানুয়ারি উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আনন্দমুখর পরিবেশে সারা দেশে বই উৎসব পালিত হতো। এ দিন দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হতো। বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠত।

এবার বই বিতরণে বিলম্ব প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ‘যেহেতু বাইরের একটি দেশের বই ছাপার কথা ছিল। ৫ আগস্টের পর সেই টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডার আহ্বানের ফলে বই ছাপাতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এজন্য বই বিতরণে কিছুটা দেরি হলেও প্রাথমিকের বই জানুয়ারির মধ্যেই বিতরণ করা সম্ভব হবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের ওপরে কিছুটা বাড়তি চাপ পড়বে, এটি ঠিক। এটি মেনে নিতে হবে। তার কারণ, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশে সব ক্ষেত্রেই একটি প্রভাব পড়ে। যেটি শিক্ষাক্ষেত্রেও পড়েছে। এটি মেনে নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। যেসব বিদ্যালয়ে খুব কমসংখ্যক শিক্ষার্থী আছে, সেগুলো পাশের স্কুলের সঙ্গে একীভূত করার চিন্তা রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতো কোটা না রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এই উপদেষ্টা।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে অন্য চাকরিতে যেমন ৭ শতাংশ কোটা রয়েছে, এখানেও তেমনটি থাকবে। তবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গণিতে দক্ষ করে তুলতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট নিয়োগের ২০ শতাংশ গণিত এবং বিজ্ঞানের বিষয়গুলো থেকে পাস করাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গাইড বই ও প্রাইভেট কোচিংয়ের বিষয়টি নিরুৎসাহিত করতে হবে। শহর অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করার কাজ চলমান আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু হবে, যা আগামী বছরই প্রকল্প আকারে চালু হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ সবচেয়ে কম, বাজেটের মাত্র ২ শতাংশ। কিন্তু ইউনেসকোর মতে, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাজেটের ৬ শতাংশ হওয়া উচিত। শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদার উন্নতি ঘটানো এখন সময়ের দাবি। প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্যই হলো শিশুদের অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা। একই সঙ্গে তাকে ভাষাজ্ঞানে ও গণিতে দক্ষ করা। পড়তে পারা মানুষের সামনে বিশে^র জ্ঞানরাজ্যের দ্বার খুলে যায়। যার সূচনা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই হয়।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ফিরোজ সরকার। বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি জয়দেব চৌধুরী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. তবিবুর রহমান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. ফিরোজ শাহ প্রমুখ। সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জন জেলা প্রশাসক, প্রতিনিধি এবং বিভাগীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত