৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেলেন স্বামী-স্ত্রী

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:৪৯ পিএম

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় স্বামীর মৃত্যুর খবর শোনার পর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে ওই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শত শত মানুষ মৃত দম্পতিকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন ওই বাড়িতে। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস গ্রামে।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নওশা আকন্দ ওই দম্পতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, গতকাল সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মেয়ের বাড়ি সদর উপজেলার হাট লক্ষ্মীপুর গ্রামে বেড়াতে গিয়ে মৃত্যু হয় নজির হোসেনের। এর পর স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্ত্রী রশিদা বেগম (৬৫)। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনিও মারা যান।

মরহুম নজির হোসেন একই গ্রামের মৃত নসিম উদ্দিন আকন্দের ছেলে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য ছিলেন। অবসরের পর নজির হোসেন বাড়িতেই কৃষি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন । ৫ ছেলে, ৩ মেয়ে ও নাতি-নাতনি নিয়ে ছিল তার সংসার।

মরহুম নজির হোসেন আকন্দের নাতি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমার দাদা বেশ কিছুদিন ধরে একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণেও তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। আমরা তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার কাছে আমাদের হার মানতে হলো। এক সপ্তাহ আগে তিনি মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান, যেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি বলেন, দাদা ও দাদির মধ্যে গভীর ভালোবাসার এক অনন্য বন্ধন ছিল। স্বামীর মৃত্যু সংবাদ দাদি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। এই শোক সইতে না পেরে, তিনি একই দিনে মাত্র ৪ ঘণ্টা পর দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। তাদের এই বিদায় আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আজ সকাল সাড়ে ১১টায় জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। 

সাদুল্যাপুর খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নওশা আকন্দ বলেন, দীর্ঘদিনের ভালবাসার সাজানো-গোছানো সংসারের অবসান ঘটিয়ে একই দিনে মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এমন মৃত্যু সত্যই দুঃখজনক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত