পাহাড়-পর্বত আল্লাহর অনন্য নিদর্শন

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:০২ এএম

পাহাড় স্থিরতার প্রতীক। মহান আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে নিরাপদে বসবাসের জন্য যেসব নেয়ামত দিয়েছেন, সেসবের মধ্যে পাহাড়-পর্বত অন্যতম। সুউচ্চ পাহাড়-পর্বতের সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। আবার এটির সৃষ্টির রহস্যও খুবই অবাক করার মতো। মূলত ভূপৃষ্ঠের ভারসাম্য রক্ষায় পেরেক হিসেবে সুবিশাল পর্বতমালা সৃষ্টি করা হয়েছে। যেন পৃথিবী স্থির থাকে এবং এতে বসবাসে কারও সমস্যা না হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি ভূপৃষ্ঠের ওপর সুদৃঢ় পর্বতমালা তৈরি করেছি, যাতে তাদের নিয়ে তা দোল না খায় এবং তাতে তৈরি করেছি প্রশস্ত রাস্তা, যাতে তারা গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে। আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ, কিন্তু এর নিদর্শনাবলি থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’ (সুরা আম্বিয়া ৩১)

এ ছাড়াও পাহাড়ের কথা পবিত্র কোরআনে অনেকবার এসেছে। পাহাড়ের গুরুত্ব বোঝাতে পবিত্র কোরআনে তুর পাহাড়ের নামে একটি সুরারও নামকরণ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, ‘মহান আল্লাহ জমিন সৃষ্টি করলে তা নড়াচড়া শুরু করে, তিনি তখন পাহাড় সৃষ্টি করলেন। এর ফলে জমিনের স্থিতিশীলতা কায়েম হয়।’ (তিরমিজ) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘মহান আল্লাহ শনিবার মাটি সৃষ্টি করেছেন আর রবিবারে পাহাড়-পর্বত।’ (সহিহ বুখারি)

পাহাড় সৃষ্টি না করলে পৃথিবী স্থির থাকত না। তখন মানুষের পৃথিবীতে বসবাস করা সম্ভব হতো না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি পৃথিবীতে এ জন্য ভারী বোঝা (পাহাড়) রেখে দিয়েছি, যেন তাদের নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে।’ (সুরা আম্বিয়া ৩১) অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি পর্বতগুলো পেরেক স্বরূপ সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা নাবা ৭) এ প্রসঙ্গে আরও বলা হয়েছে, ‘আর পর্বতগুলো তিনি দৃঢ়ভাবে প্রোথিত করেছেন।’ (সুরা নাজিআত ৩২) আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘তারা (মানুষ) কি পাহাড়ের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, কীভাবে তা স্থাপিত হয়েছে?’ (সুরা গাশিয়াহ ৮৮)

কোনো কোনো পাহাড়ের সঙ্গে মিশে আছে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। যেমন সাফা ও মারওয়া পাহাড়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহতায়ালার নিদর্শনগুলোর অন্যতম। অতএব যে কাবা শরিফে হজ করে অথবা ওমরা করে, তার জন্য উভয় স্থানের তাওয়াফ করায় কোনো দোষ নেই এবং যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো পুণ্য কাজ সুসম্পন্ন করে, আল্লাহতায়ালা নিশ্চয় তার মর্যাদা দান করেন। তিনি সব কিছু সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।’ (সুরা বাকারা ১৫৮)

পাহাড় আমাদের দৃঢ় ও অটল থাকার শিক্ষা দেয়। তা ছাড়া আমাদের জন্য অঢেল সম্পদও বিলিয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনও সে কথাই বলে, ‘তিনি পৃথিবীর উপরিভাগে অটল পর্বতমালা সৃষ্টি করেছেন, আর তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চারদিনের মধ্যে তাতে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন।’ (সুরা হামিম সাজদা ১০)

পাহাড় পরিবেশকে রক্ষা করে, আর পরিবেশ মানুষকে সুস্থ রাখে। আফসোস! সেই মানুষই এখন পাহাড় কাটায় লিপ্ত। ফলে পাহাড়ের স্বাভাবিকতা বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সে কারণেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর পরিবেশ। দেখা দিচ্ছে বিপর্যয়। পাহাড় নিধনের ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে পড়ছে, যার ফলে নানা রোগবালাই আর দুর্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের বোঝা উচিত সমুদ্র ও নদীর মতো পাহাড়ও আমাদের কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। পবিত্র কোরআনের বাণীকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে পরিবেশ রক্ষার্থে পাহাড়কে বাঁচাতে হবে। আসুন, আমরা সবাই একযোগে পাহাড় রক্ষায় এগিয়ে আসি। পাহাড়কে ভালোবাসি। কেন না পাহাড়কে ভালোবাসা নবীজিরও সুন্নাত। হাদিসে এসেছে, নবীজি কোনো সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকালে মদিনার সীমান্তে ওহুদ পাহাড় চোখে পড়লে তার চেহারায় আনন্দের আভা ছড়িয়ে যেত। তিনি বলতেন, ‘এই ওহুদ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও ওহুদ পাহাড়কে ভালোবাসি।’ (সহিহ বুখারি)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত