ব্যবসায়ীদের কর অব্যাহতি দেওয়ার দিন শেষ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৩২ এএম

কর ও নীতি সুবিধা পেয়েও দেশীয় শিল্প এখনো শিশুই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা কিছুদিন ব্যবসা করার পর বলেন আমাদের কর অব্যাহতি দেন। শারীরিকভাবে বড় হয়ে গেছে তারপরও এখনো সুরক্ষা চাচ্ছে তারা। এই সুরক্ষার দিন কিন্তু চলে গেছে।

ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ-২০২৪ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত সেমিনারে তিনি ব্যবসায়ীদের এসব কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল হক প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআর সদস্য (মূসক নীতি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

শিল্প বা ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ না করে সালেহউদ্দিন বলেন, আমরা ৫০ বছর যাবৎ বহু শিশুকে লালন করেছি কর অব্যাহতি ও নানান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে। আর কতকাল শিশুদের লালন করব।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব সুরক্ষা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে, প্রতিযোগিতামূলক হতে পারব না।

কর্মকর্তাদের আরও বেশি বন্ধুসুলভ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ উপদেষ্টা বলেন, একেবারে জোর করে আদায় করবেন। যদি অসুবিধা হয় শুনবেন। কমপ্লায়েন্স করতে একটু সহযোগিতা করবেন। বিশেষভাবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের বিষয় সরকার বিবেচনা করবে।

এই উপদেষ্টা আরও জানান, ব্যবসায়ীরা তার কাছে এনবিআরের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ নিয়ে আসে। যদিও এনবিআরের অনেক সীমাবদ্ধতা ও ম্যান্ডেট আছে বলে ব্যবসায়ীদের মনে করিয়ে দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা আমার কাছে গেলেই এনবিআর নিয়ে অভিযোগ করে। আমি যখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ছিলাম তখনো তারা অভিযোগ করত। আমাদের এটা করতে হবে, ওটা করছে না। এনবিআরের সীমাবদ্ধতা আছে। তাদের কতগুলো ম্যান্ডেট আছে। চাইলেই সব তো দিয়ে দেওয়া যাবে না। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলে প্রায়োরিটি খাতে খরচ কমানো হবে বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আমরা চ্যালেঞ্জের মুখে আছি। ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও, কর ও ভ্যাট বাড়ানোর কথা বলছি, খরচ কমানোর কথা বলছি। আবার ওইদিকে বলছি প্রায়োরিটি সেক্টরে খরচ কমাব না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যাতায়াতে খরচ কম হবে না। আমরা টাকা কোথায় পাব। ওখানে বাড়াতে হলে আমাদের রাজস্ব আদায় করতে হবে তো।

ট্যাক্স রেভিনিউ বাড়ানোকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, নানা কারণে শুল্ক থেকে বাড়ানোর খুব বেশি সুযোগ নেই। কারণ এর প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর পড়ে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর যে পরামর্শগুলো আছে সেগুলো মেনে শুল্ক বাড়ানোর খুব বেশি সুযোগ নেই।

ব্যবসায়ীরা সরকারের পক্ষে মূসক সংগ্রহ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, এই দায়িত্ব পালনে ব্যাপক ঘাটতি আমরা দেখতে পাই। অনেক সময় গ্রাহক ভ্যাট দিতে চান, তারা রসিদ চান কিন্তু ব্যবসায়ীরা গড়িমসি করেন। এমন অভিযোগ আছে গ্রাহক ভ্যাট দিয়েছেন কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেননি।

মূল প্রবন্ধে মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ৫ আগস্টের পর মূসক নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ৯৪টি নিরীক্ষা শেষ করে ১৫৯ দশমিক ৬৬ কোটি টাকার মূসক ফাঁকি উদঘাটন করেছে। আদায় করেছে ৬১ দশমিক ১৬ কোটি টাকা। ভ্যাট অণুবিভাগ গত ৩ মাসে ৯ হাজার ৮২৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন প্রদান, ভ্যাট আইন ও বিধি সংস্কারে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত