বিএনপি নেতার অবৈধ কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ায় কর্তাদের হুমকি

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:০৫ এএম

নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর খেয়াঘাট-সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দখল করে বিএনপি নেতার নির্মাণাধীন কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর নদীবন্দরের কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন শোখনের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা তীরবর্তী দখলদাররা সক্রিয় হয়ে ওঠে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মনোয়ার হোসেন শোখন এর আগে যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর তার নেতৃত্বে শহরের ৫ নম্বর খেয়াঘাট-সংলগ্ন জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যালয়টি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে কার্যালয়টি টিনশেডের থাকলেও শোখন নদীর তীর দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন।

গত মঙ্গলবার রাতে খবর পেয়ে বিআইডব্লিউটিএর একটি টিম গিয়ে স্থাপনাটি ভেঙে দেয়। এর জেরে গতকাল বুধবার বিএনপির ওই নেতা নদীবন্দর কর্মকর্তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়াসহ তাদের ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে নানা অপপ্রচার চালাতে থাকে। এ ছাড়া গুঁড়িয়ে দেওয়া কার্যালয়টি বিএনপির কার্যালয় বলেও অপপ্রচার চালান।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মনোয়ার হোসেন শোখন বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যালয় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই এখানে ছিল। নৌ-উপদেষ্টার আগমন উপলক্ষে বন্দরের কর্মকর্তা কার্যালয়টি সরিয়ে নিতে বললে আমরা সরিয়ে নিই। পরে বন্দরের কর্মকর্তা আমাদের মৌখিকভাবে কার্যালয় করার অনুমতি দিলেও আজমেরী ওসমানের দোসর শিপলু বাবুর কথা শুনে আমাদের অফিসটি ভেঙে দিয়েছে। বিএনপির ভ্যানচালক ইউনিয়নেরও কার্যালয় এখানে।’ যারা এই কার্যালয় ভাঙচুর করেছে তারা আওয়ামী লীগের দোসর বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ইজারাদার শিবলী মাহমুদ বাবু বলেন, ‘আমি ৩ নম্বর মাছঘাটের ইজারাদার। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মনোয়ার হোসেন শোখন নামে শ্রমিক দল নেতা পরিচয়দানকারীর সেখানে এর আগে একটি টিনশেড ঘর ছিল। সেটি সরিয়ে নিতে বললে তিনি সরিয়েও নেন। কিন্তু হঠাৎ আমরা জানতে পারি, তিনি সরকারি জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। খবর পেয়ে আমরা সেটি গুঁড়িয়ে দিই। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নদীর তীরবর্তী এলাকায় কোনো ধরনের স্থাপনা করা যাবে না। এখানে কেউ অনুমতিও দিতে পারবে না।’

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘তিনি  (শোখন) আমাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। আমাদের বিগত সরকারের দোসর আখ্যায়িত করে নানাভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করছেন।’

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করছেন তারা তাদের ব্যক্তিস্বার্থে করছেন। বিএনপির কেন্দ্র থেকেও দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের কার্যালয় না করতে বিধিনিষেধ রয়েছে। বিএনপি এসব কার্যালয়ের কোনো অনুমোদন দেয় না। যারা করছেন অতিউৎসাহী হয়ে করছেন। এটা দলের নির্দেশনারও পরিপন্থী। কারও ব্যক্তিগত দায়দায়িত্ব দল বহন করবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত