বাড়তি বেতন প্রত্যাখ্যান ৩৫ কারখানায় ছুটি

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১২ এএম

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের বার্ষিক মজুরি ৯ শতাংশ বাড়ার ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছেন ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার বেশ কিছু কারখানার শ্রমিকরা। বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) ১৫ শতাংশ করা এবং অর্জিত ছুটির টাকা প্রতি মাসে পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় গতকাল বুধবার ওই দুটি এলাকার অন্তত ৩৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, নাসা গ্রুপের তিনটি কারখানা ১৩(১) ধারা অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও আরও অন্তত ৩০টি কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় গতকাল দুপুরের আগে বিভিন্ন সময়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে যান। যদিও তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল আশুলিয়ায় ইনক্রিমেন্ট ১৫ থেকে ২০ শতাংশের দাবিতে কাজ বন্ধ বা শ্রমিকরা কাজ না করে চলে গেছেন এমন কারখানার সংখ্যা ২৫। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও কারখানার শ্রমিকরা জানান, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের বার্ষিক মজুরি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি, বার্ষিক অর্জিত ছুটির বকেয়া টাকা প্রতি মাসে পরিশোধ এবং ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। যারই ধারাবাহিকতায় গতকাল শিল্পাঞ্চলের নরসিংহপুর ও আশপাশের কারখানাগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে অন্তত ৩৫টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্র্তৃপক্ষ। নরসিংহপুর এলাকার হামীম গ্রুপ, শারমীন গ্রুপ, মেডলার, নেক্সট কালেকশন, আল মূসলীম, সেতারা গ্রুপ, নিউ এইজ, ডেকো, বান্দু ডিজাইন, ভিনটেজ, নীট এশিয়া, মানতা, ডেবনিয়ার, অরবিটেক্স, এএম ডিজাইন, ইসলাম গার্মেন্টস, দ্যা রোজ, অ্যাপারেলস গ্যালারি এবং এথিকালসহ বেশ কিছু কারখানার শ্রমিকরা সকালে কারখানায় এলেও ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন। শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে নাসা ও ট্রাউজার লাইন শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় তাদের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মাঝ থেকে স্টারলিং নামে একটি পোশাক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

শিল্পপুলিশ-১ এর সুপার মো. মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘বর্ধিত বেতনে সন্তুষ্ট নন শ্রমিকরা, তাই তারা কাজ বন্ধ করে বসে আছেন। ৩৫টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কোনো প্রকার অরাজকতা কিংবা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। বিশৃঙ্খলা এড়াতে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য এবং বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে।’

এর আগে গত সোমবার ন্যূনতম মজুরি পুনর্মূল্যায়ন ও বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির পঞ্চম বৈঠকে বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি ৯ শতাংশের সিদ্ধান্ত হয়। শ্রমিকদের অনেকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে কর্মবিরতি কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত