কানাডায় বাড়ছে স্বেচ্ছামৃত্যুর হার

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:২৮ এএম

কানাডায় চিকিৎসাগত সহায়তায় স্বেচ্ছামৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। যখন কোনো ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন বা জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে অসহনীয় কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটান-তখন তাকে সেই কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রাণনাশে সহায়তাকেই ইউথেনেশিয়া বা সহজ মৃত্যু বলা হয়। ২০১৬ সালে এই প্রক্রিয়া আইনগতভাবে বৈধ হওয়ার পর কানাডা পঞ্চম বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ইউথেনেশিয়ার হার ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

টানা পঞ্চম বছরের মতো স্বেচ্ছামৃত্যুর হার বাড়লেও, ২০২২ সালে কানাডায় স্বেচ্ছামৃত্যুর হার সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছে ছিল। সে বছর এই হার ছিল ৩১ শতাংশ। ২০২৩ সালে কানাডায় প্রায় ১৫ হাজার ৩০০ জন ইউথেনেশিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করেছেন, যা দেশটির মোট মৃত্যুর ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশটির কুইবেক প্রদেশে ইচ্ছামৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। যা দেশের মোট ইচ্ছামৃত্যুর ৩৭ শতাংশ। এর কারণ জানতে একটি গবেষণা শুরু করেছে কুইবেকের স্থানীয় সরকার। ২০২৭ সালের মধ্যে মানসিক রোগীদের ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছে।

 ২০২৩ সালে ইউথেনেশিয়া প্রাপ্তদের প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীর স্বাভাবিক মৃত্যু প্রত্যাশিত ছিল। অবশিষ্ট ৪ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছিলেন। ইউথেনেশিয়ার আবেদনকারীদের গড় বয়স ছিল প্রায় ৭৭ বছর। এদের অধিকাংশই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। এ বছরই প্রথমবারের মতো ইউথেনেশিয়ার আবেদন করা ব্যক্তিদের জাতিগত পরিচয় সম্পর্কিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৯৬ শতাংশ ইউথেনেশিয়া প্রাপ্ত ব্যক্তি শ্বেতাঙ্গ। যা কানাডার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ। এশীয়দের মধ্যে এই হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

ইউথেনেশিয়ার ক্ষেত্রে কানাডা এখনো নেদারল্যান্ডসের পেছনে রয়েছে, যেখানে এই পদ্ধতি ৫ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে, যা মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত এমন অসুস্থ রোগীদের ইউথেনেশিয়ার অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে কানাডার ইউথেনেশিয়া প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত