এখন কী হবে সিরিয়ার কুর্দিদের

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:২৯ এএম

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার মধ্য দিয়ে দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি এখন পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জের সামনে। বাশারকে উৎখাত করা বিদ্রোহীরা একটি ঐক্যবদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার কথা জানিয়েছে। তবে প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর দেশটিতে সেই আদর্শের বাস্তবে প্রয়োগ করা সহজ হবে না। সেই সঙ্গে দেশটিতে শান্তিশৃঙ্খলার বাস্তবায়নে নতুন সংকট হতে পারে সংখ্যালঘু যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ কুর্দি জনগোষ্ঠী। ফলে নতুন সরকার গঠন ও দেশটির সংখ্যালঘু কুর্দিদের কী পরিণতি হবে সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপি।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালীন কুর্দি যোদ্ধারা আইএসকে পরাস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মেলায়। পরে দেশটির তেল সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তৈরি করেছিল তারা। তবে আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা সুন্নি আরব বিদ্রোহীদের উত্থান কুর্দিদের জন্য নতুন সিরিয়ায় জায়গা করে নেওয়া কঠিন করে তুলবে। এমনকি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। কুর্দিদের দীর্ঘদিনের শত্রু তুরস্ক অবশ্য বিদ্রোহীদের এই হামলায় সহায়তা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে তুর্কি কর্র্তৃপক্ষ।

বিদ্রোহীরা সপ্তাহান্তে দামেস্কে প্রবেশ করে কুর্দিদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল। তবে কয়েক দিন পরই কুর্দি যোদ্ধাদের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দেইর আল-জোর থেকে তাড়িয়ে দেয় বিদ্রোহীরা। সিরিয়ার উত্তরে তুরস্ক সমর্থিত একটি পৃথক বিরোধী দল বছরের পর বছর ধরে কুর্দিদের সঙ্গে লড়াই করছে। কুর্দিদের তাড়িয়ে মানবিজ শহরটি দখলে নিয়েছে তারা। এ ছাড়া, একটি কুর্দি কাফেলার ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে তুরস্ক। দেশটির দাবি, সরকারি অস্ত্রাগার থেকে লুট করা ভারী অস্ত্র বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল কাফেলাটি।

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের ওপর নির্ভর করছে কুর্দিরা। তবে ট্রাম্পের অধীনে কুর্দিদের সহায়তা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকেই। গৃহযুদ্ধের শুরুর দিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত ছিটমহল তৈরি করলেও, আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিদ্রোহীদের কাউকেই পুরোপুরি সমর্থন করেনি গোষ্ঠীটি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক সমর্থিত সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি বিরুদ্ধে লড়েছে কুর্দিরা। বিশ্লেষকদের ধারণা, তুরস্কের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কুর্দিদের নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে। তবে জার্মানি ভিত্তিক সেন্টার ফর কুর্দিস স্টাডিজের প্রধান নওয়াফ খলিল বলেন, এটি ইতিবাচক যে, সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক বাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলেনি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মঙ্গলবার সিরিয়ায় এসডিএফ বাহিনীর সঙ্গে দেখা করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল এরিক কুরিলা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত