নেতার সঙ্গে তর্ক করায় বাস ভাঙচুর করল বিএনপি কর্মীরা, চালককে মারধর

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:০৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সানারপাড় এলাকায় বাসচালকের সঙ্গে বিএনপি নেতার তর্কের জেরে বাস ভাঙচুর ও চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নয়ন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে আসিয়ান এসি বাসের চালক। আহত নয়নকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

গাড়িচালকের অভিযোগ, তর্কে উঁচু গলায় কথা বলার অপরাধে তাকে মারধর ও গাড়ি ভাংচুর করেছে বিএনপি নেতার অনুসারীরা। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর।

আহত নয়ন বলেন, ‘আমি গুলিস্থান থেকে গাড়ি চালিয়ে আসছিলাম। সায়েদাবাদে জ্যাম থাকার সময় গাড়ির সামনে একটি মোটরসাইকেল এসে থামে। দ্রুত ব্রেক করায় গাড়ির যাত্রীদের ঝাঁকি লাগে। এসময় সেই নেতা বলে কিরে কেমনে গাড়ি চালাস? এনিয়ে তর্ক হলে সে আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। গাড়ি সানারপাড় আসার পর ২৫/৩০ জন কর্মী এসে আমার গাড়ি ভাঙচুর করে ও আমাকে বেধড়ক মারধর করে। আমার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে ও গ্লাস ভেঙে আমার মাথা কেটে যায়। পরে তার কাছে মাফ চেয়ে আমি নিস্তার পাই। বিষয়টা মালিক পক্ষকে জানিয়েছি। তারা যেটা বলবে সেটাই করবো।’

এদিকে মিনহাজ আমান নামে বাসের এক যাত্রী অভিযোগ করেন। বাস ভাঙচুর না করতে বলায় তাকেও লাঞ্চিত করে ইকবালের হোসেনের কর্মীরা।

আসিয়ান বাস মালিকদের একজন মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি একটু দূরে আছি।’

তবে আরেক বাস মালিক নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘আমরা নিজেরা নিজেরা আপোষ করে ফেলবো।’

অভিযুক্ত কাউন্সিলর ইকবাল বলেন, ‘গাড়ির ড্রাইভার বাজে আচরণ করেছে। ওরে ভালোভাবে গাড়ি চালাতে বলায় আমাকে বলে ‘আপনে গাড়ি চালান’। আমি বলছি সাইনবোর্ড রাখ তোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। ও আমাকে বলে এমন ফাপড় অনেকেই দেয়। আর ও মাফ  কখন চেয়েছে? আমার চিন্তা ছিলো কানা ধরিয়ে দিয়ে ছেড়ে দিব। কিন্তু পাবলিক তো আর এটা বুঝে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত