প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:০০ এএম

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অবশ্যই স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যবীমা চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গতকাল শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পদক্ষেপ নির্ধারণ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চিহ্নিত করতে ‘রিফর্ম পাথওয়েজ ফর হেলথ সেক্টর’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

‘ইউএইচসি ডে ২০২৪’ উপলক্ষে ইউএইচসি (ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজ) ফোরাম ও ব্র্যাক যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। আলোচনায় নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে এনজিও এবং বেসরকারি সংস্থার মূল্যবান অবদানগুলোর স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করতে হবে, যাতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারি। একে অন্যকে দোষারোপ না করে সমন্বিত পদক্ষেপে মনোনিবেশ করা জরুরি। একসঙ্গে কাজ করে আমরা আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারব।’

চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী বলেন, ‘দারিদ্র্য কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাত ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবর্তনের এই সময়ে আমাদের আরও সাহসী সংস্কারের দিকে এগিয়ে যেতে হবে বা ‘বড় চিন্তা’ করতে হবে। তবে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য প্রায়ই বাইরে থেকে একটি ‘পুশ’ (ধাক্কা) প্রয়োজন হয়।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রাধিকারমূলক খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সেবা গ্রহণে প্রবেশাধিকার, সেবাপ্রদানের গুণগত মান, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক প্রচার ও প্রসার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যবীমা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে ভর্তুকি ছাড়াও প্রিমিয়াম সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সংস্কার এবং অর্থ বরাদ্দের নিয়মে পরিবর্তন আনতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত