তারেক রহমান বললেন

সংস্কারের জন্য কত মাস, জানতে চায় জনগণ

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৬ এএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কী করতে চাইছে? রাষ্ট্র মেরামতের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আর কত মাস কিংবা কত সময় প্রয়োজন। সেটি জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। সরকার জনগণের সামনে তাদের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনার রোডম্যাপ ঘোষণা করলে, এটি একদিকে জনগণের কাছে সরকারের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিকেই নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও গতিশীলতা বাড়বে।’ গতকাল রবিবার বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে তারেক স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারেক রহমান বলেন, ‘শত অস্পষ্টতা কাটিয়ে অচিরেই নির্বাচনী রোডম্যাপে যাত্রা শুরু করবে আমাদের প্রিয় এই বাংলাদেশ। সেই যাত্রায় আপনাদের বিশ্বস্ত সঙ্গী হচ্ছে দেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ, আপনারা জনগণের সঙ্গে থাকুন, জনগণকে সঙ্গে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।’

রোডম্যাপের প্রসঙ্গে তারেক বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনার রোডম্যাপ ঘোষণার কথা শুনলেই উপদেষ্টাদের চেহারায় অস্বস্তির ছাপ ফুটে ওঠে, যেটি অবশ্যই গণ-আকাক্সক্ষাবিরোধী। সরকারের সব কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কাছে যত বেশি স্বচ্ছ থাকবে, জনগণও সরকারের প্রতি তত বেশি সমর্থনের হাত প্রসারিত রাখবে।’

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা পেয়েছে। এ কারণে প্রায়ই আমি বলে থাকি, ১৯৭১ সাল ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের আর ২০২৪ সাল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। এমন পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে এবারের বিজয় দিবস অবশ্যই বেশি আনন্দের গৌরবের এবং অনেক বেশি অর্থবহ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই, আগামীর বাংলাদেশে প্রতিটি স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস হয়ে উঠবে জনগণের প্রতি রাষ্ট্র এবং সরকারের দায় কিংবা প্রতিশ্রুতি পূরণের অর্থবহ দিন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র ও জনগণকে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী করতে হলে রাষ্ট্র এবং রাজনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের লালন, বিকাশ ও চর্চা অত্যন্ত জরুরি। আমরা মনে করি, রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা অন্যতম প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত জাতীয় সংসদ। জবাবদিহিমূলক সরকার ও সংসদ যথাযথভাবে কার্যকর থাকলে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত থাকে। আমাদের মনে রাখা দরকার, জনগণ শক্তিশালী না থাকলে জাতীয় ঐক্যও শক্তিশালী হয় না।’

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মানুষের মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ জোগাতে অনেকের জীবনে নাভিশ^াস উঠেছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সমাজের প্রায় প্রতিটি মানুষ। প্রতিদিনের সংসারের ব্যয় মেটাতে জনগণকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করে অন্তর্বর্তী সরকার যদি শুধু সংস্কারের নামে সময় ক্ষেপণ করে, তাহলে জনগণের কাছে সংস্কার আগে না সংসার আগে, এই প্রশ্নটি মুখ্য হয়ে উঠতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভোগ বর্তমানে মেনে নিলেও জনগণ এখনো সরকারের বিরুদ্ধে তেমন উচ্চবাচ্য করছেন না। কারণ জনগণ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সফল দেখতে চান। তবে আগেও বলেছি, আজও উল্লেখ করতে চাই, অন্তর্বর্তী সরকার নিজেরা নিজেদের সফল দেখতে চায় কি না, তা তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে হবে। একটি দেশের জন্য ৫৪ বছর সময় কম নয়। এই কথাটি গতকাল (শনিবার) একজন প্রতিবন্ধী ভাই উনি উল্লেখ করেছেন। লাখো মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে দেশের জনগণ আজ অভূতপূর্ব ঐক্যের মোহনায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই ঐক্য কাজে লাগিয়ে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘একটি বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইতিমধ্যেই ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্যই হচ্ছে, শিশু-নারী-বৃদ্ধ অথবা দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রকে অবশ্যই প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব নিতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা, প্রত্যেক বাংলাদেশি এই মুহূর্তে যেটা চাই, সেটা হচ্ছে, তারেক রহমানের নেতৃত্ব। তিনি যেন দেশে ফিরে নেতৃত্ব দেন। আসুন তারেক রহমানের যুগান্তকারী ৩১ দফা কর্মসূচিতে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আমি আবার বলতে চাই, এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, অবশ্যই অতিদ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, এই সংস্কারের পথটা সুগম করা।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকরা, সবাই একসঙ্গে একযোগে এই লক্ষ্যে এগিয়ে যাই। আর একটি কথা মনে রাখতে হবে, যে কথাটা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বারবার বলছেন, আপনাদের আচার-আচরণের ওপর নির্ভর করবে, সামনের দিনে জনগণের ভালোবাসা পাব কী পাব না। সেই কথা চিন্তা করেই আমরা যেন এগিয়ে যাই।’

দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, রফিকুল আলম মজনু, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, এম মোনায়েম মুন্না, এসএম জিলানী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত