সিএনজি ও প্রাইভেটকার বেশি চলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে। গত শুক্রবার ছুটির দিনের একদিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২৪ ঘণ্টায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ১১ হাজার ১৯৫ টি যানবাহন চলাচল করেছে। এর মধ্যে সিএনজি ও প্রাইভেটকার চলাচল করেছে ৮ হাজার ৫৫১ টি। যদি ঘোষিত হারে টোল আদায় করা হতো তাহলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আয় করতো ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭০ টাকা। তবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর থেকে আর টোল দিয়েই চলাচল করতে হবে সকল ধরনের যান।
নগরীর পতেঙ্গা থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে গত আগস্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চলাচলের পর এবার পুরোদমে চালু হতে যাচ্ছে।
টোল আদায়ের কথা স্বীকার করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান টোল আদায়ের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী ১৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় টোল প্রদানের মাধ্যমে গাড়ি চলাচল শুরু হবে।’
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অধিশাখা-১ এর উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আওয়ালের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সমাপ্ত হওয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল নির্ধারণ করা হয়। মোটরসাইকেল ও ট্রেইলার ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের তিনটি পয়েন্টে ১০ ধরনের যান চলাচলের জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়। টোলের এই অর্থ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ ব্যয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের ঋণের টাকা পরিশোধ করা হবে। জিইসি থেকে পতেঙ্গা সি বিচ পর্যন্ত সিএনজি ৩০ টাকা, কার ৮০ টাকা, জিপ ১০০ টাকা, মাইক্রোবাস ১০০ টাকা, পিকআপ ১৫০ টাকা, মিনিবাস ২০০ টাকা, বাস ২৮০ টাকা, ট্রাক (চার চাকা) ২০০ টাকা, ট্রাক (ছয় চাকা) ৩০০ টাকা এবং কাভার্ডভ্যান ৪৫০ টাকা হারে একবার যাতায়াতে টোল প্রদান করবে।
অপরদিকে জিইসি থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত সিএনজি ২০ টাকা, কার ৫০ টাকা, জিপ ৭০ টাকা, মাইক্রোবাস ৯০ টাকা, পিকআপ ১৩০ টাকা, মিনিবাস ১৮০ টাকা, বাস ২৫০ টাকা, ট্রাক (চার চাকা) ১৮০ টাকা হারে একবার যাতায়াতে টোল প্রদান করবে।
এ দিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে কী পরিমাণ যান চলাচল করছে তা নিয়ে সিডিএ’র জরিপে দেখা গেছে, দিনে গড়ে ১০ হাজার গাড়ি চলাচল করছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার ছুটির দিনে ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ১১ হাজার ১৯৫টি গাড়ির সিএনজি গাড়ি চলাচল করেছে ৩ হাজার ৭০৬টি এবং প্রাইভেট কার ৪ হাজার ৮৪৫টি। এছাড়া বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরিও রয়েছে চলাচলের তালিকায়।
টোল কোথায় আদায় হবে জানতে চাইলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন,‘পতেঙ্গা প্রান্তে চারটি অস্থায়ী বুথের মাধ্যমে টোল আদায় করা হবে।
এ দিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে জিইসি মোড় থেকে ওঠে পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন স্থানে নামার সুযোগ রয়েছে। আবার পতেঙ্গা থেকে ওঠে নগরের টাইগারপাস, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে নামার জন্য র্যাম্প রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, টাইগারপাস, নিমতলা, কেইপিজেড, ফকিরহাট, সিইপিজেডে ওঠানামার নয়টি র্যাম্প থাকবে।
উল্লেখ্য লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মুল অংশের কাজ শেষ হলেও এখনো র্যাম্প নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে যাতে উঠতে পারে সে জন্য প্রথমে ১৪টি স্থানে র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছিল। সম্প্রতি সিডিএ বোর্ড ৫টি র্যাস্প বাদ দিয়ে ৯টি পয়েন্টে র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। বর্তমানে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার দিয়ে উঠে পতেঙ্গায় যাওয়া যায় এবং আসার পথেও একই পথ অনুসরণ করা হয়।
পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল প্রশ্নে চূড়ান্ত রায় কাল
রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ‘জয় বাংলা' স্লোগান লিখন
রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে যা বলল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন