বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, আওয়ামী লীগ তিনবার মানুষের ভোট হরণ করেছে। সব মানুষে মুখিয়ে আছে ভোট দেওয়ার জন্য। এই মুহূর্তে নির্বাচনকে গুরুত্ব দিতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা, উপদেষ্টাবৃন্দ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা হওয়া জরুরি। আলোচনায় নির্বাচনের একটা নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা উচিত। একই সাথে নির্বাচনের একটা রোডম্যাপ হওয়া দরকার যে কোনটার পরে কোনটা করা হবে।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টর এবং মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র প্রদর্শনীর প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, আলোচনায় উঠে আসবে কোনটা এখন হবে আর কোনটা পার্লামেন্ট ছাড়া হবে না, প্রয়োজনে এগ্রিমেন্ট করা যেতে পারে।
তিনি বলেন,‘ভারত যদি আমাদের বন্ধু হয়, তাহলে এ দেশের সম্পদ নিতে চায় কেন? স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ভারতের চিন্তাভাবনা কী ছিল, তা আমরা জানি। মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণের সম্পদ এবং মুক্তিযুদ্ধের সম্পদ নেওয়ার সময় মেজর এম এ জলিল (মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার) বাধা দিয়েছিলেন। তখন তাকেও বন্দি করা হয়েছিল।’
সরোয়ার বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু হলেও, তারা বিভিন্ন কথাবার্তা বলে আমাদের দেশ চালানোর চেষ্টা করছে। বিজিবি নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, আমার মনে হয় না তার চিন্তাধারায় কোনো পরিবর্তন এসেছে। তাদের ইচ্ছা হলো একটি পুতুল সরকার বানিয়ে আমাদের দেশ পরিচালনা করা।’
এ ছাড়া বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টর এবং মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র প্রদর্শনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই আয়োজন আমার কাছে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। আমি রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞ।’
বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি আনিসুর রহমান খান স্বপনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বীরমুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল।
এ দিকে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের বই-পত্র ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত নানা উপকরণ, চিঠি, ডায়েরি, নির্দেশনাসহ বহু দুর্লভ জিনিস প্রদর্শিত হয়।
এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের বই, ছবি, মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত গানবোটের কামানের গোলা, রেডিও, শত্রুপক্ষের নৌযান ডুবিয়ে ফেলার কাজে ব্যবহৃত মাইনের খণ্ডাংশ, মুক্তিযুদ্ধে বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে স্থাপিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা, মুদ্রণে ব্যবহৃত সাইক্লোস্টাইল মেশিন, বেশ কয়েকটি বন্দুক, মুক্তিযুদ্ধের পর বরিশালে প্রথম ভাস্কর্য বিজয় বিহঙ্গের ডিজাইন, ১৯৭১ সালে নৌ কমান্ডারদের ব্যবহৃত কস্টিউম এবং বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান (যা সম্পূর্ণ হাতে লেখা) নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন পত্রিকা এবং শান্তি কমিটির একটি চিঠিও রয়েছে প্রদর্শনীতে।
রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে যা বলল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
ব্যানারে ছাত্রদল নেতার ছবি না দেয়ায় আরেক নেতাকে ছুরিকাঘাত
অন্তর্বর্তী সরকারের রোডম্যাপ জানার অধিকার জনগণের রয়েছে: তারেক