সিদ্ধিরগঞ্জ

যুবদলের অনুষ্ঠানে যুবলীগের হামলায় আহত ১০

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির চেয়ারপরসন বেমগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় যুবদল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুবলীগ কর্মীরা এ হামলা করেছে বলে আয়োজকদের অভিযোগ। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় সাহেবপাড়া মিতালি মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় মার্কেটের ব্যবসায়ী সমতির সভাপতি আমির হোসেন বাদশাসহ আহত হয়েছেন ১০ জন। যুবলীগ কর্মী মাঈনউদ্দিনের দোকান থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। পরিস্থিতি শান্ত হলেও মার্কেট এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।  

মিতালি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য আমির হোসেন বাদশা বলেন, আমরা যুবদলের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে মিতালী মার্কেটে বিজয় দিবস উপলক্ষে বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন মাহফিলে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় যুবলীগের জয়নাল, লিটল মোল্লা, মাইনউদ্দিন, মিলন, হাসান, রহিম ও মানিকসহ ৪০ থেকে ৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাহফিলে হামলা করে। আমাদের মারধর ও সমিতির অফিস ভাঙচুর করে। তাদের হামলায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল, সহ-সভাপতি ইয়াছিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান, সদস্য মনিরুল ইসলাম খোকন, মো. রাজু ও আমি নিজেও আহত হই। 

আমির হোসেন বাদশার অভিযোগ গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও ছাত্র-জনতা হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি জয়নাল আবেদীন ফারুক, জামান, মাসুম ও বাদশার শেল্টারে জয়নাল, লিটন মোল্লা, মাঈনউদ্দিন, রহিম, মিলন ও হাসান মার্কেটে চাঁদাবাজি করে আসছে। তারা মার্কেটের দোকান দখল করে অফিস ও টর্চার সেল বানিয়েছে। কোনো দোকানদার চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে ধরে নিয়ে তাদের টর্চার সেলে নির্যাতন করা হয়। তাদের অফিস ও দোকনপাটে দেশীয় অস্ত্র সংরক্ষণ করে রাখে। এসব অস্ত্র নিয়ে মাঝে মাঝে মার্কেটে মোহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাই আজকের ঘটনার পর থেকে তাদের মার্কেটে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছি। এদেরকে আর মার্কেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রবেশ করার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে।

সমিতির সহসভাপতি ইয়াছিন জানান, আমাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ মার্কেটের ৬ নম্বর ভবনের ১ নম্বর গলির মাঈনউদ্দিনের ৪০৯ নম্বর দোকান থেকে বড় ছয়টি ছুরি ও দুটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছেন। 

হামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইলে ফোন করলেও সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত