আ.লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ

বাধা নেই বক্তব্য প্রচারের পর ব্যাখ্যা বদিউলের

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:০৬ এএম

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘কোনো বাধা তাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে বলে আমি দেখছি না। তবে এ ব্যাপারে কোনো রকম বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই।’ গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা করেন বদিউল আলম মজুমদার। পরে দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা চাই একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। কোনো রকম বাধা দেওয়া হবে না। বাধার সৃষ্টি করা হবে না। আমি আশা করি, সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

তবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিজের এই বক্তব্যের ‘অপব্যাখ্যা’ হয়েছে দাবি করে রাতে এর প্রতিবাদ জানান নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে কয়েক বছর ধরে নানাভাবে ভূমিকা রেখেছি এবং নানা ত্যাগ স্বীকার করে সেই ভূমিকা অব্যাহত রেখেছি।’ গতকাল রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে রংপুরে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ড. বদিউল আলম এ কথা বলেন।

এর আগে সন্ধ্যায় ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই’ বলে ড. বদিউল বক্তব্য দিয়েছেন উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনে নেতৃত্ব দেওয়া প্ল্যাটফর্মটির মুখপাত্র উমামা ফাতেমা এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

এরপর ফেসবুকে ‘বক্তব্যের অপব্যাখ্যা সম্পর্কে আমার প্রতিবাদ’ শিরোনামে একটি পোস্ট করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আজ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে “নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে”র উদ্যোগে অংশীজনের সঙ্গে এক সফল সংলাপের পর স্থানীয় কিছু সাংবাদিক ভবিষ্যতের নির্বাচন সম্পর্কে আমার কাছে জানতে চান। আমি বলেছি, আমাদের কমিশন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্বাচনী আইনকানুন ও বিধিবিধান সংস্কারের প্রস্তাব করবে। আমি আরও বলেছি, ভবিষ্যতে আইনকানুন মেনে প্রস্তুত হয়ে নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করতে পারবে, তাদের ব্যাপারে আমি কোনো বাধা দেখছি না। এটি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিষয়।’

‘কিন্তু কিছু গণমাধ্যম আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছে, যা অনাকাক্সিক্ষত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও প্রাণহানির বিনিময়ে গত ৫ আগস্ট এক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এই লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরে আমি নানাভাবে ভূমিকা রেখেছি এবং নানা ত্যাগ স্বীকার করে সেই ভূমিকা অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা প্রচার আমাকে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে। আমি মনে করি, এ ধরনের অপপ্রচার শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ মুগ্ধের রক্তকে অস্বীকার করার শামিল।’

এর আগে গতকাল রংপুরে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, ‘অতীতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচনে নির্বাচনী কর্মকর্তারা সব ধরনের প্রভাবমুক্ত থাকবেন। যে কারণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে।’

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের কাছে হাজার হাজার প্রস্তাব এসেছে। এগুলো পর্যালোচনা করে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।’ নির্বাচনে কোনো ব্যক্তি অযোগ্য না হলে নির্বাচন করতে পারবেন এমন সুযোগ সবার থাকা উচিত বলেও মত দেন তিনি।

এ সময় সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, মহানগর সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু এবং সুজনের বিভাগীয় সমন্বয়ক রাজেস দে রাজুসহ রংপুর মহানগর ও জেলা সুজনের কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিলনায়তনে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত