বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন চলাকালে গণহত্যার সময় দেশ জুড়ে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ঘটনার সময় ডাক, টেলি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জুনাইদ আহমেদ পলক। গত বুধবার পলককে একদিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে পলককে জিজ্ঞাসাবাদের এ অনুমতি দেয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৪ আগস্ট ঢাকার খিলক্ষেত নিকুঞ্জ বন্ধ করা হয় এলাকা থেকে পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। গণহত্যা ও হত্যা মামলায় এখন তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গতকাল অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুনাইদ আহমেদ পলক অনেক তথ্য দিয়েছেন। কার কাছ থেকে এবং অন্যান্য সোর্স থেকে যেটা পেয়েছি যে, জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যূত্থান চলাকালীন সময় ইন্টারনেট বন্ধের যে নাটক করা হয়েছিল সেটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। কোনো টাওয়ারে আগুন লেগেছে, এগুলোর কোনো ব্যাপারই ছিল না। তিনি (পলক) স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছেন যে, তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী এবং এ মামলাগুলোর প্রধান আসামি শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশ আসার পর তথ্য প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে আইআইটি-ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গ্যাটওয়ে, এই গেটওয়েদের একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়, সেই গ্রুপে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয় অবিলম্বে ইন্টারনেট শাটডাউন করার এবং তাদের এটা নিশ্চিত করতে বলা হয় যে, ইট ইজ ডান।’ তিনি বলেন, ‘এই তথ্যগুলো আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আসামিকে (পলক) জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি এটা সত্যায়ন করেছেন।’
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণহত্যাকে গোটা দুনিয়ার কাছ থেকে আড়াল করার যে চেষ্টা এবং এটার (ইন্টারনেট বন্ধ রাখা) ব্যাপারে যে মিথ্যা অজুহাত দেখানো হয়েছে, ক্যাবল লাইন পুড়ে গিয়েছিল, এটা হয়েছিল, সেটা হয়েছিল, সেটা সর্বৈব মিথ্যা। প্রধান যে নিউক্লিয়াস শেখ হাসিনার নির্দেশে তার পরবর্তী কমান্ডার জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট প্রোভাইডার যারা আছে তাদের বাধ্য করে তদানীন্তন ক্ষমতাশালীরা দেশের ইন্টারনেট শাটডাউন করেছিল।’
