গত বছর দেশের সাড়ে চার লাখ মানুষ চিকিৎসা নিতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে গেছেন। এই সংখ্যা ২০২২ সালের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেশি। ১২ রোগের চিকিৎসায় বিদেশ যাচ্ছে মানুষ। বেশি যাচ্ছে ক্যানসার, কিডনি ট্রান্সপ্লান্টসহ তিন থেকে চারটি রোগের চিকিৎসায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত ২১ কারণে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষ আস্থা রাখতে পারছে না। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসকদের রোগীদের যথেষ্ট সময় না দেওয়া, হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়া, অনেক রোগের চিকিৎসা না থাকা, ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও চিকিৎসায় দীর্ঘ সময় লাগা ইত্যাদি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরাডপ মিলনায়তনে ‘চিকিৎসা সেবায় বিদেশমুখিতা : আমাদের উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারওয়ার বারী ও সভাপতিত্ব করেন বিপিএমসিএ সভাপতি এম এ মুবিন খান।
বৈঠকে ডা. মো. সারওয়ার বারী বলেন, রোগীদের বিদেশমুখিতা কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার ক্যানসারসহ অন্তত তিনটি রোগের অত্যাধুনিক চিকিৎসায় কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের প্রস্তুত করছে।
এম এ মুবিন খান বলেন, দেশের প্রধান শহরগুলোতে বিশ্বমানের বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি করা দরকার।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, চিকিৎসাসেবায় অসন্তুষ্টি এবং অনাস্থা রয়েছে। সুবিধা ও বিনিয়োগের সংকটও রয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. জাফরুল্লাহ চৌধুরী চিকিৎসা পর্যটনকে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন। বিপিএমসিএ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, চিকিৎসাসেবায় কিছুটা উন্নতি হলেও অব্যবস্থাপনা ও মানসম্পন্ন চিকিৎসার ঘাটতি রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেন, পেশাজীবীদের মধ্যে ব্যবসায়ীরাই বেশি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) বিজ্ঞানী (মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য) আহমেদ এহসানুর রহমান।
