হরমোনের সমস্যা বা বংশগত কারণে অনেক নারীর মুখে অতিরিক্ত লোম গজায়। এই লোমগুলো আপাতদৃষ্টে ক্ষতিকর না হলেও মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। খুব সহজে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব লোম দূর করা সম্ভব। মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকে সুগার সিরাপ কিংবা লেজার করে থাকেন। তবে সুগার সিরাপে মুখের লোম দূর করতে হলে প্রচণ্ড ব্যথা সহ্য করতে হয়। অন্যদিকে লেজার ট্রিটমেন্টে যদি আপনি মুখের লোম তোলেন তবে তার রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
মেয়েরা মুখের অবাঞ্চিত লোম দূর করতে অনেক সময়ই রেজারের সাহায্য নিয়ে থাকে। এতে করে মুখের ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ্ম ও শুষ্ক। একই সাথে ত্বক হারায় লাবণ্য। তাই ঘরোয়া উপায়ে মুখের অবাঞ্চিত লোম দূর করতে পারেন।
১. থ্রেডিং
চিমটার সাহায্যে লোম অপসারণ করতে বেশি সময় ব্যয় হয়। যদি কম সময়ে মুখের লোম তুলতে চান তবে পার্লারে সুতার সাহায্যে থ্রেডিং করতে পারেন।
২. রসুনের রস
একটি তুলার সাহায্যে রসুনের রস অবাঞ্ছিত লোমের অংশে লাগান। ১০ মিনিট পর ভালো ব্র্যান্ডের কোনো ফেসওয়াস দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহেই মুখের সেসব অংশে লোমের পরিমাণ কমতে শুরু করবে।
৩. ফেসপ্যাক
চালের গুঁড়ো দিয়েও আপনি আপনার মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে পারেন। কারণ, এটি ত্বকের জন্য একটি কার্যকরী স্ক্র্যাব। এর জন্য ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়োয় ২ চা-চামচ চিনি, ১ চা-চামচ মধু এবং ৩ চা-চামচ দুধ (প্রয়োজন অনুযায়ী দিন), ১ চামচ গোলাপ জল নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। পেস্টটি ঘন হলে মুখে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন ৩০ মিনিট। মুখে লাগানো পেস্ট শুকিয়ে শক্ত হলে মাস্কটি আলতোভাবে ভেজা তুলার সাহায্যে তুলে ফেলুন। এতে ফেসিয়াল হেয়ার ওঠার পাশাপাশি ত্বকের মৃত কোষও উঠে যাবে।
৪. ওয়াক্সিং
আপনার যদি থ্রেডিং করার মতো সময় না থাকে, তবে ওয়াক্সিং আপনার জন্য আদর্শ। এ জন্য ওয়াক্স স্ট্রিপ কিনতে হবে। তারপর মুখের যে অংশের লোম তুলতে চাচ্ছেন, সেখানে লাগিয়ে টান দিলেই অবাঞ্ছিত লোম গোড়া থেকে উঠে আসবে। ওয়াক্সিং করলে বেশ কয়েক সপ্তাহ লোম নিয়ে চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন।
৫. শেভিং
এখন বাজারে নারীর ত্বকের উপযোগী বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন আকারের রেজর পাওয়া যায়। মুখে ছোট, বড় ভাঁজ ও রয়েছে, এমন অংশের জন্যও বিভিন্ন আকারের রেজরের সেট কিনতে পাওয়া যায়। এগুলো বাড়িতে ব্যবহার করা সহজ। লোম অপসারণের আগে ক্লিনজার দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। খুব ভালো হয়, যদি হালকা গরম পানিতে মুখটা ধুয়ে নেওয়া যায়। এতে মুখের ত্বক নরম হবে। এরপর আস্তে আস্তে গালের ওপর থেকে রেজর নিচের দিকে নামিয়ে শেভ করে নিতে হবে। শেভিংয়ের জন্য মুখের ত্বক অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে উঠতে পারে, এ জন্য ভারী ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। ত্বক খুব বেশি সংবেদনশীল হলে এই পদ্ধতিতে লোম অপসারণ না করাই ভালো।