শীতকাল মুমিনের জন্য উপহারস্বরূপ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:১৫ এএম

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে দুটি ঋতুর কথা উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে শীতকাল একটি। হাজারো নেয়ামতে ভরপুর করেছেন এই ঋতুকে। একইভাবে বেশি বেশি আমল করার সুযোগ দান করেছেন। তাই শীতকাল মুমিনের জন্য উপহারস্বরূপ। শীত একদিকে স্বস্তিদায়ক। অপর দিকে পরকালে পাপী বান্দাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। যার ফলে জাহান্নামিদের অস্থিসমূহে কম্পন সৃষ্টি হবে। দুনিয়ার আগুন থেকে পরকালের আগুনের প্রখরতা যেমন অনেক বেশি হবে, তেমনি দুনিয়ার ঠাণ্ডা থেকে পরকালের ঠাণ্ডার তীব্রতা অনেক বেশি হবে। এই সামান্য শীতে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, তাহলে জাহান্নামের তীব্র ঠাণ্ডা আমরা কীভাবে সহ্য করব? তাই বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আমাদের নেকির পাল্লা ভারী করতে হবে। আর শীতকাল হলো অধিক ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়। শাস্তি থেকে নাজাতের সুসংবাদ দিয়ে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, শীতকাল হলো মুমিনের বসন্তকাল। শীতকালে দিন ছোট হয়। তাই (নফল) রোজা রাখবে। শীতকালে রাত দীর্ঘ হয়। তাই (নফল) নামাজ পড়বে। (বায়হাকি)

হজরত ওমর (রা.) বলেন, ‘শীতকাল ইবাদতকারীদের জন্য গনিমত।’ (হুলইয়াতুল আউলিয়া) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, ‘শীতকালকে স্বাগতম! এতে বরকত অবতীর্ণ হয়। নামাজের জন্য রাত লম্বা হয় এবং রোজার জন্য দিন ছোট হয়।’ ইখলাসের নিয়তে সহজ আমলের দ্বারাও আমাদের নেকির পাল্লা ভারী হতে পারে। শীতকালে অধিক নামাজ আদায় এবং রোজা রাখাসহ যেসব ইবাদত সহজে করা যায়, তা উল্লেখ করা হলো।

নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলা : শীতকালের রাত দীর্ঘ হওয়ার ফলে রাত্রিকালীন নফল নামাজ পড়া অধিকতর সহজ। নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে। নামাজের পাশাপাশি তসবিহ-তাহলিল, ইসতেগফার, দরুদ, জিকিরসহ অন্যান্য ইবাদতেও মশগুল থাকা যায়। রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহতায়ালা সপ্তম আসমান থেকে প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং তার কাছে যা কিছু চাওয়া হয় তিনি তা কবুল করেন। আর শীতের রাত লম্বা হওয়ার ফলে শেষরাতে ইবাদত করা অনেকটাই সহজ।

রোজা রাখার সুবর্ণ সুযোগ : দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখার কারণে ক্লান্তি ও তৃষ্ণা কম হয়। রোজার অনেক ফজিলত রয়েছে। জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক বিশেষ দরজা দিয়ে রোজাদাররা প্রবেশ করবে। রোজাদার ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। রোজার প্রতিদান কেবল আল্লাহ নিজেই দেবেন। এছাড়া আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোজা রাখার শারীরিক ফায়দা প্রমাণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) তার শিষ্যদের বললেন, আমি কি তোমাদের সহজ গনিমত সম্পর্কে অবহিত করব না? তারা বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন, তা হলো শীতকালে রোজা রাখা।’ (বায়হাকি)

সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা : সমাজে যারা দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত রয়েছে তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা আমাদের কর্তব্য। রাস্তার ফুটপাতে কিংবা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যেসব দরিদ্র মানুষ শীতবস্ত্রহীন শুয়ে থাকে আমাদের উচিত তাদের শীতবস্ত্র দেওয়া। এই ঠাণ্ডার মৌসুমে অনেকেরই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হয়, যারা অভাবের তাড়নায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারে না এবং ওষুধপত্র কিনতে পারে না। আমাদের উচিত তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দাকে সাহায্য করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই বান্দা তার অপর কোনো ভাইকে সাহায্য করে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত