বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারকে ক্যাডার কাঠামোর বাইরে রাখার জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেছে বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশন নেতারা এই সুপারিশকে হঠকারী উল্লেখ করে বলেছেন, তারা আলোচনা ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের কোনোরূপ সংস্কার মেনে নেবেন না। এই সুপারিশ প্রত্যাহার করা না হলে সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার ব্যর্থ হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এসব কথা বলেন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেন ও সদস্য সচিব ডা. উম্মে তানিয়া নাসরিন। সংবাদ সম্মেলনে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন, প্রাণিসম্পদ, কৃষিসহ অন্যান্য ক্যাডারের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রকৃত সংস্কার প্রস্তাবনা বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকে ক্যাডারবহির্ভূত করার হঠকারী সুপারিশ করেছে। এই ধরনের সুপারিশ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেধাবৃত্তিক জনপ্রশাসন তৈরি ও বৈষম্যবিরোধী মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংস্কার কমিশন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত দক্ষতার সুস্পষ্ট ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এরূপ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবায় স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, এমন সুপারিশে উদ্ভূত যেকোনো ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতির কোনোরূপ দায়ভার বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন নেবে না। অ্যাসোসিয়েশন সংস্কার কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানায়। তবে দুরভিসন্ধিমূলক সুপারিশকে মেনে নেবে না।
সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিনির্ধারণী পদে কোনো চিকিৎসক না রাখার সমালোচনা করেন বিসিএস চিকিৎসকরা। তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একজন সরকারি চিকিৎসক স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে অনেক বেশি জানবেন। অথচ স্বাস্থ্যের নীতিনির্ধারণী পদে কোনো সরকারি চিকিৎসক নেই। তাহলে স্বাস্থ্যের সংস্কারের প্রস্তাব কতটুকু যৌক্তিক?
বিসিএস চিকিৎসকরা আরও বলেন, বিগত সময়ে সচিবালয়ে অচিকিৎসক কর্মকর্তারা স্বাস্থ্যকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও যুগপোযোগী না করে বরং উল্টো পথে হেঁটে আমলাতান্ত্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কায়েম করেছে। ফলে স্বাস্থ্য খাত আজও কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী পদে স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন ও উপসচিব পুলে উন্মুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
