সাত সপ্তাহ ধরে বেলগ্রেডে একের পর এক আন্দোলন হচ্ছে। সাত সপ্তাহ আগে উত্তর সার্বিয়ার নভি সাদ স্টেশনের ছাদ ভেঙে পড়েছিল ট্রেনের ওপর। ওই ঘটনায় প্রাণ হারায় অন্তত ১৫ জন। এরপর অভিযোগ ওঠে, দুর্নীতির কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করে জবাব চাওয়া হয়। এরপরেই সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আন্দোলন শুরু হয়। শুরুতে আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্ররাই। তবে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষকরাও। গত জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ছাত্রদের আন্দোলন যেভাবে গণআন্দোলন হয়ে ওঠে একইভাবে সার্বিয়ার চলমান ছাত্র আন্দোলনও একই পথে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিন দিন আন্দোলন যে আরও বড় হচ্ছে তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় গত রবিবার দেশটির রাজধানী বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত গণজমায়েতে। সরকারের হিসাবেই ওই সমাবেশে অন্তত ২৯ হাজার মানুষের জমায়েত হয় ওইদিন। সেখানে ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিকদের পাশাপাশি অভিনেতারা যোগ দেন। তবে গত সাত সপ্তাহ ধরে ছাত্ররা লাগাতার রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন; যেমনটা হয়েছিল বাংলাদেশে।
রবিবার বেলগ্রেডের জমায়েতে প্রথম ১৫ মিনিট নীরবতা পালন করা হয় মৃত ১৫ জনকে স্মরণ করে। পরের আধ ঘণ্টা গর্জনের আধ ঘণ্টা বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই আধ ঘণ্টা প্রবল আওয়াজের মাধ্যমে প্রতিবাদ দেখানো হয়।
গত মাসে দুর্ঘটনার পর অভিযোগ উঠেছিল, সাম্প্রতিক কালে দুইবার ওই স্টেশনে সংস্কারের কাজ হয়েছে। একটি চীনা সংস্থাকে দিয়ে ওই কাজ করানো হয়। কাজের নামে সেখানে দুর্নীতি হয়েছে।
এদিকে ওই সময় বিক্ষোভকারীদের চাপের মুখে একজন মন্ত্রীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি ওই মন্ত্রীকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে রোষের পারদ আরও চড়েছে।
প্রাথমিকভাবে দেশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিস বলেছিলেন, আন্দোলন নিয়ে তিনি এতটুকু চিন্তিত নন। বিরোধীরাই এই আন্দোলনের পেছনে আছে। কিন্তু রবিবারের জমায়েত দেখার পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
ডয়চে ভেলে বলছে, সরকার যে ভয় পেয়েছে সেটা প্রেসিডেন্টের নমনীয় আচরণে বোঝা যাচ্ছে। আরেকটি বিষয়, রবিবারের ঘটনার পর দেশটির সরকার স্কুলের শীতকালীন ছুটিও বাড়িয়ে দিয়েছে।
