একজন মুসলিম হিসেবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসরণ-অনুকরণ আবশ্যক। তিনি ব্যতীত ভিন্ন কেউ মুমিনের আদর্শ হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ যারা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে।’ (সুরা আহজাব ২১)
নবী (সা.) হলেন সর্ববিষয়ে আমাদের জন্য সর্বোত্তম নমুনা বা দৃষ্টান্ত। বাবা হিসেবে, শিক্ষক হিসেবে, স্বামী হিসেবে, এমনকি একজন গোলামের মনিব হিসেবেও। যেকোনো দিক থেকেই বিবেচনা করা হোক না কেন, তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ। ঘরের একজন সাধারণ বাবুর্চি বা খাবার পরিবেশকের সঙ্গে কীরূপ আচরণ করা উচিত সেই শিক্ষাও দিয়েছেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
ঈদ, বিয়েশাদি কিংবা নানা উপলক্ষ সামনে রেখে মানুষ বাহারি রকম ভোজের আয়োজন করে। অনেক সময় কোনো উপলক্ষ ছাড়াই সপ্তাহে বা মাসে একদিন পরিবারের সবাই মিলে ভালো খাবারের আয়োজন করে। গোশত, কোরমা-পোলাও, জর্দা ইত্যাদি। এ মজাদার খাবারগুলো কিন্তু গরিব-অসহায় মানুষরাই রান্না করে। যারা ধনীদের ঘরে বাবুর্চি বা কাজের বুয়া হিসেবে থাকে। তো খাবারের সময় হলে সবাই একসঙ্গে বসলেও যে কষ্ট করে রান্না করল তার ভাগ্যে কিন্তু তা জুটে না। সে খায় সবার শেষে, ধনীদের উচ্ছিষ্ট। অথচ প্রিয় নবী (সা.)-এর শিক্ষা হলো, যে রান্না করে বা খাবার পরিবেশন করে সম্ভব হলে তাকেও পাশে বসিয়ে খাওয়ানো। তা না হলে কয়েকে লুকমা খাবার তার হাতে তুলে দেওয়া। নিম্নোক্ত হাদিসে সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন তোমাদের কারও খাদেম (তোমাদের কারও সামনে) খাবার পরিবেশন করে, যা রান্না করার কষ্ট ও গরম সে সহ্য করেছে, তখন সে যেন তাকে নিজের সঙ্গে বসিয়ে খাওয়ায়। সে যদি তা না করে, তাহলে একটি গ্রাস তুলে যেন তার হাতে দেয়। (ইবনে মাজাহ ৩২৯০)
