বালু তোলায় ঝুঁকিতে সেতু

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:৫৮ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শঙ্খ নদ ও বিভিন্ন খাল থেকে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। ফলে সেতু, রাস্তাঘাট, খাল ও নদের তীর, আশপাশের স্থাপনা এবং আবাদি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের মুরালী খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ টাঙ্গাপুল সেতুর পাশেও গড়ে উঠেছে তিনটি অবৈধ বালুমহাল। অবৈধ বালুমহালের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে এলাকার সড়ক, কৃষিজমিসহ বসবাসকারী মানুষের বসতিও।

সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতে নদী থেকে বালু তুলে তীরে স্তূপ করে রাখা হয়। সেখান থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে বালু নিয়ে বিক্রি করে তারা। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও দু-চার দিন পর আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়। প্রশাসন যথাযথভাবে নজরদারি করছে না বলেও জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা জামশেদুল আলম বলেন, প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর নদী থেকে বালু উত্তোলন করলেও কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পায় না। কিছু বলতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। পরৈকোড়া ইউনিয়নের মুরালী খালের ওপর নির্মিত টাঙ্গাপুল সেতুর পাশেও গড়ে উঠেছে তিনটি অবৈধ বালুমহাল। এ কারণে ইতিমধ্যেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেদিকে কারও নজর নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, অবৈধ ড্রেজার মেশিনগুলোর মালিকরা ক্ষমতাসীন নেতার প্রত্যক্ষ মদদে মাসোহারার বিনিময়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। বালু তোলার কারণে বেঁড়িবাধ, কৃষিজমি, বসতঘর ও সড়ক ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুছাইন মুহাম্মদ অভিযান চালিয়ে দুই স্থানে ১ লাখ টাকা জরিমানা করলেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশীলদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে নদী থেকে বালু উত্তোলন চলছে। বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের একটি সিন্ডিকেট উপজেলার ১১ ইউনিয়নে শঙ্খ নদ ও আশপাশের এলাকায় রমরমা বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিন্তু গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও ফের রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশীলদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে উপজেলার ২০টির বেশি স্পটে রাতারাতি আগের নিয়মে বালু ব্যবসা শুরু হয়েছে।

বর্তমানে আনোয়ারা উপজেলায় হাইলধর ইউনিয়নের চানখালী খাল, দক্ষিণ ইছাখালী, বরকল ব্রিজ ও শঙ্খ নদের আশপাশের সাতটি স্পট, পরৈকোড়া ইউনিয়নের কৈখাইন নোয়ারাস্তা, বাথুয়াপাড়া, শিলালিয়াসহ বিভিন্ন স্পটে বালুর ব্যবসা চলছে। তাছাড়া বারখাইন ইউনিয়নের পূর্ব বারখাইন, তৈলারদ্বীপ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে রমরমা চলছে বালু ব্যবসা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুসাইন মুহাম্মদ বলেন, ‘আনোয়ারায় সরকার অনুমোদিত কোনো বালুমহাল নেই। যারা অবৈধভাবে শঙ্খ নদ থেকে বালু তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত