লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জমি সংকান্ত বিরোধের জেরে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় কলেজ ছাত্র মো.মাকছুদুর রহমান রনি ও শ্রমিক মো.আশরাফকে কারাগারে পাঠানোর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শনিবার বিকেলে চর কাদিরার চর বসু এলাকায় মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করে শতাধিক নারী-পুরুষ।
এ সময় মানববন্ধনে এলাকাবাসী ইমন, ইন্দু হাওলাদার, শারমিন, মুন্নি, পূর্ণি জানান, সামছুল আলমের বাড়ি পাশে ভুক্তভোগী মো.মাকছুদুর রহমান রনিদের কৃষি জমি রয়েছে। সেখানে তারা চাষাবাদ করতে গেলে ফসল নষ্ট করায় সামছুল আলমের সাথে বিবাধে জড়িয়ে পড়েন। তৎকালীন সময় ধরে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। হঠাৎ ৯ ডিসেম্বর সামছুল আলমের বসত ঘরে রাতের আধাঁরে কে বা কাহারা ডাকাতি বা চুরি করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ জানাজানি হয়। ডাকাতি বা চুরির ঘটনায় মো. মাকছুদুর রহমান রনি ও মো. আশরাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর স্থানীয় রামগতি উপজেলা সেনা ক্যাম্পে তাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ দায়ের করেন সামছুল আলম। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর তারিখে একই ব্যক্তি সামছুল আলম বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় চুরির অভিযোগ বাদ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। চুরি বা ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্রকে কলেজ পড়ুয়া রনি ও শ্রমিক আশরাফকে মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেন।
আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ৪০ বছরের তাদের পরিবার বা তাদের নামে কোনো ধরনের দুর্নাম বা ন্যাক্কারজনক কোনো তথ্য নেই। তারা পারিবারিকভাবে স্বচ্ছল ও সম্মানি ব্যক্তি। তারা এলাকা খুবই সহজ-সরল জীবন যাপন করেন। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি কামনা করছি। কলেজ ছাত্র মো.মুরাদ জানান, রনি তাদের সাথে কলেজে পড়ে। তিনি ধর্ষণের মত জর্ঘন্য কাজ করতে পারে না। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। তার মুক্তি চান তিনি।
ভুক্তভোগী মো.মাকছুদুর রহমান রনির বাবা মো. সাহাজান বলেন, চুরির মিথ্যা অভিযোগকে ধর্ষণ সাজিয়ে তার কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে জেলে পাঠানো হয়েছে। তার ছেলে নির্দোষ। তার মুক্তি চান তিনি।
আশরাফের বাবা মো.ইব্রাহিম বলেন, তার ছেলে আশরাফ দিনমজুর শ্রমিকের কাজ করেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। তার ছেলের মুক্তি চান তিনি।
মো.মাকছুদুর রহমান রনি উপজেলার রামগতির-কমলনগরের বর্ডার চরবসু এলাকার সেন্টালবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা মো.সাহাজানের ছেলে, এবং মো. আশরাফ একই এলাকার মো.ইব্রাহীমের ছেলে।
মামলার বাদী সামছুল আলম ১৫ ডিসেম্বর মো.মাকছুদুর রহমান রনি ও আশরাফের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ধর্ষণ মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সেনা ক্যাম্পের অভিযোগে টাইপে ভুল করে ধর্ষণের বিষয়টি আনা হয়নি জানান।
কমলনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী সামছুল আলম সেনা ক্যাম্পে চুরি ঘটনার অভিযোগ করেন। পরে তিনি থানায় দুজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
রেমিট্যান্সে রেকর্ডের হাতছানি
জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে তিন ভাইয়ের মৃত্যু
সীতাকুণ্ডে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন
স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় পরকীয়া প্রেমিকাকে খুন