নতুন বছরে নতুন বাফুফেতে নতুন রূপে ছোটন

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫২ পিএম

ঢাকায় শীতের আমেজ চললেও দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে যেন বসন্ত। নারী ফুটবল দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি ঘটানোর মূল কারিগর বরেণ্য কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ফিরেছেন বাফুফেতে। তাও আবার একটি নয় দুটি দায়িত্বে।

আগামী এক বছরের জন্য বাফুফের এলিট ফুটবল একাডেমি এবং ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ জতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক প্রধান কোচ ছোটন। আজ ফেডারেশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে বাফুফের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আগে যেভাবে কাজ করেছি সামনেও সেভাবে কাজ করবো। তরুণদের উন্নতি করার অনেক জায়গা আছে। সেইটা করার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলাররা যেন ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি হয় সেটাই আমার লক্ষ্য থাকবে।’

ফুটবলকে বলা হয় কোচের খেলা। মাঠে এগারো ফুটবলার হলো ঘুঁটি আর কোচ হচ্ছেন খেলোয়াড়। ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে মাথা দিয়েই যাকে কাজটা করতে হয়। ২০০৯ সালে নারী ফুটবলের দায়িত্ব নিয়ে সেই কাজটিই নিপুণভাবে করে গেছেন ছোটন। 

বলে ঠিকভাবে লাথি দিতে না পারা একদল মেয়ের শুধু কোচ নয় অভিভাবক হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলেন তিনি। তার কড়া শৃঙ্খলা ও অতুলনীয় আত্মত্যাগের ফসল হিসেবে আন্তর্জাতিক আসরে ট্রফি জয় করতে শেখে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে সিনিয়র পর্যন্ত, দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়াঅব্দি- বাংলাদেশ আলাদা করে প্রতিষ্ঠা করেছে নিজেদের। ঘরে আসে ২০১৫, ২০১৬ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। ২০১৭ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে রানার্স আপ। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলেও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়।  ২০১৬-১৭ সালে সিনিয়র সাফে হয় রানার্স আপ। দেশে তৈরি হয় নারী ফুটবলের জাগরণ। ২০২২ সিনিয়র সাফের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে মুকুটে সবশেষ পালকটি যোগ করেছিলেন ছোটন।

গত বছর বাফুফের তখনকার সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ভিনদেশি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলির কাজের ফিরিস্তি গাইতে গিয়ে সরাসরি অস্বীকার করেছেন ছোটনের অবদান। নিজেদের মধ্যে আলোচনায় প্রায়ই সালাউদ্দিন বলে থাকেন, মেয়েদের ফুটবলে ছোটনের তেমন কোনো অবদান নেই। সবকিছুই নাকি করেছেন পল স্মলি। পল চলে গেলে নাকি ৯ মাসেই ভেঙে পড়বে মেয়েদের ফুটবলের অবকাঠামো। এরপরও নিভৃতচারী ছোটন প্রকাশ্যে বঞ্চনার কথা স্বীকার না করলেও  মে মাসে জানিয়ে দেন নিজের প্রিয় কাজটি ছেড়ে দেওয়ার কথা। 

নতুন বাফুফে সেই ছোটনকেই মনে করেছে গুরুত্বপূর্ণদের একজন। নতুনদের গড়ার যে কাজটিতে তিনি সবচেয়ে পটু, সেই দায়িত্বেই ফিরিয়ে আনা হলো গোলাম রব্বানী ছোটনকে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত