নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের হাতে সোনা ফলেছে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায়। উপন্যাস দিয়ে শুরু করলেও লিখেছেন ছোটগল্প, টেলিভিশনের জন্য নাটক, চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য সবই। ছোটদের জন্যও দুহাত ভরে লিখেছেন। উপন্যাস, ছোটগল্প, নতুন ধরনের রূপকথা, ভূতের গল্প। সবকিছুতেই আছে হুমায়ূনী ছাপ। সহজ-সরল গদ্য। এমন একটি দিককে মায়াময় করে তুলে ধরেছেন যে, যা সাধারণত নজরে আসে না সাধারণ মানুষের। এমন সব অসাধারণ গল্পগুলো নিয়েই সংকলন ‘সেরা কিশোর গল্প’। হুমায়ূন আহমেদের গল্প পড়লে পাঠক আবারও বাধ্য হয় চেনাজানা পরিবেশের দিকে নতুন দৃষ্টি নিয়ে দেখতে। ‘মোবারক হোসেনের মহাবিপদ’ গল্পটি তেমন একটি গল্প। এই গল্পে লেখক জানাচ্ছেন, পরীর বাচ্চারা খেলতে মাঝে মাঝে পৃথিবীতে আসে। দলবদ্ধ হয়ে ছেলেমেয়েরা যে খেলা করে তার মধ্যে অবশ্যই দুই-তিনটি (!) পরীর বাচ্চা থাকে। এই কথা জানার পরে কে না ছেলেমেয়েদের খেলতে দেখলে ভালো করে তাকিয়ে দেখে বোঝার চেষ্টা করবে না যে, কোন বাচ্চাটা পরীর বাচ্চা? তার গল্প পড়লে চারপাশের বাস্তবকে অস্বীকার করে ইচ্ছা হয় গল্পের জাদুর বা মায়ার পৃথিবীকে বাস্তব হিসেবে মেনে নিতে। গল্পগুলো হলো তিনি ও সে, বোকাভূ, মজার ভূত, রুঁরুঁর গল্প, মোবারক হোসেনের মহাবিপদ, একটি ভয়ংকর অভিযানের গল্প, ভূত মন্ত্র, পানি রহস্য, কানী ডাইনী, রানী কলাবতী, বোকা দৈত্য, মিতুর অসুখ, আলাউদ্দিনের চেরাগ, বনের রাজা, হলুদ পরী, নীল হাতি, একটি মামদো ভূতের গল্প, আকাশ পরী, পরীর মেয়ে মেঘবতী, চেরাগের দৈত্য এবং বাবলু। এই বইয়ের আরেকটি গল্প হলো এমন একজন সাধারণ মানুষের যিনি পানির ওপর দিয়ে হাঁটতে পারেন। লেখক গল্পে বলেননি পানির ওপরে হাঁটা মানুষদের বৈশিষ্ট্য কী কিন্তু তিনি দেখিয়েছেন এই মানুষটির রয়েছে কাকের প্রতি ভালোবাসা। হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায়ও কোমরভাঙা কুকুরটি কী খাবে তা নিয়ে তার দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। মানুষটি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকে বরণ করে নেয়। সেদিন তাকে বিদায় জানাতে আসে কাকের সারি আর কোমরভাঙা একটি কুকুর। এমন গল্প পড়ে যদি কারও পানির ওপরে হাঁটতে পারে এমন মহৎ মানুষ হওয়ার সাধনা শুরু করতে সাধ হয় তাকে কি দোষ দেওয়া যাবে? এভাবেই লেখক মাটির পৃথিবীর দৃশ্য দিয়েই তৈরি করে মায়ার ভুবন। এমন সব অসাধারণ গল্পের এই সংকলনটি তোমাদের ভালো না লেগে যায় না।
সুলতানা রাজিয়া
