হজ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া প্রতিটি এজেন্সির হজযাত্রীর সংখ্যা ৫০০ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর কম হলে কয়েকটি এজেন্সি মিলে একটি লিড এজেন্সি নির্ধারণ করে এই কোটা পূরণ করতে পারবে। সরকারের এই নির্দেশনা মেনে হজ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন হজ এজেন্সি মালিকরা। কিন্তু শেষ সময়ে এসে লিড এজেন্সির হজযাত্রী কমপক্ষে এক হাজার নির্ধারণের নির্দেশনা দেয় সৌদি আরব সরকার। ঘটনাটি জানার পরই ক্ষুব্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি হজ এজেন্সি মালিকরা। তারা সৌদি সরকারের নির্দেশনা মানতে রাজি নন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল শনিবার বায়তুল মোকাররম ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এজেন্সি মালিকরা।
বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব একেএম আফতাব উদ্দিন প্রামাণিক, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ, সাবেক মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার, সাবেক মহাসচিব গোলাম সারোয়ারসহ অন্যরা। বৈঠকে তারা হজযাত্রীর কোটা ৫০০ জনের বেশি না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের দাবি না মানা হলে চলতি বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকবেন এমন হুমকি দিয়েছেন তারা।
হজ এজেন্সি মালিকরা বলেছেন, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশি ৯৩৭টি এজেন্সিকে চলতি বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। হজ এজেন্সি মালিকরা এজেন্সিপ্রতি হজযাত্রীর সংখ্যা ২৫০ জন করতে সরকারের কাছে আবেদন করেন। বাংলাদেশ সরকার হজযাত্রীর কোটা ৫০০ নির্ধারণ করে দেয়। একই সঙ্গে কোনো হজ এজেন্সির হজযাত্রীর সংখ্যা ৫০০ জনের কম হলে কয়েকটি হজ এজেন্সি মিলে একটি লিড এজেন্সি নির্ধারণ করে ৫০০ জনের কোটা পূরণের নির্দেশ দেয় সরকার। সেই নির্দেশনা মেনে কাজ করছেন হজ এজেন্সি মালিকরা। গত ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৯০টি হজ এজেন্সি তাদের লিড এজেন্সি নির্ধারণকাজ সম্পন্ন করেছে। বাকি এজেন্সিগুলো লিড এজেন্সি নির্ধারণে কাজ করছে। এরই মধ্যে সৌদি সরকার জানিয়ে দিয়েছে লিড এজেন্সির হজযাত্রীর কোটা কমপক্ষে এক হাজার হতে হবে। এখন এটা করা সম্ভব হবে না।
তারা আরও বলেন, সৌদি সরকারের বেঁধে দেওয়া কোটা মানছে না। বিষয়টি নিয়ে হজ এজেন্সি মালিকরা ক্ষুব্ধ। প্রয়োজনে তারা এ বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকবেন। বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে গতকাল বিকেলে প্রায় ৩০০ হজ এজেন্সি মালিক বায়তুল মোকাররম ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে হজ এজেন্সি মালিকরা হজযাত্রীর কোটা ৫০০ জনের বেশি করতে অস্বীকৃতি জানান। প্রয়োজনে তারা এ বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার বিষয়টি উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করেন। তারা এ বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে সৌদি সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করে সমাধানের অনুরোধ করেন। ধর্ম উপদেষ্টা হজ এজেন্সি মালিকদের বিষয়টি সমাধানে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
হজযাত্রীর কোটা পূরণ হচ্ছে না : চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১ জুন পবিত্র হজ পালিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনুযায়ী প্রতিবছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ বাংলাদেশি হজ পালনের সুযোগ পাবেন। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করছেন ৮৩ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৪ হাজার ৯৭২ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৭৮ হাজার ৯৬৮ জন হজযাত্রী রয়েছেন। আগামী ১৩ জানুয়ারি সৌদি সরকারের সঙ্গে হজ চুক্তি সম্পন্ন হবে। তবে চলতি বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীর কোটা পূরণ হচ্ছে না। এর আগে ২০২৪ সালে হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৫৩৩টি হজ এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে ২৫৯টি হজ এজেন্সি হজ কার্যক্রমে অংশ নেয়। এসব এজেন্সির হজযাত্রীর কোটা পূরণ না হওয়ায় ২৩৪টি লিড এজেন্সি নির্ধারণ করে হজ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও হজ অফিসের সাবেক পরিচালক বজলুল হক বিশ^াস বলেন, বারবার হজযাত্রীর কোটা পূরণ না হওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। তবে এটির সঙ্গে দেশের সুনাম জড়িত। বর্তমানে যে পরিমাণ হজযাত্রী সৌদি আরবে যান, এটি স্ট্যান্ডার্ড সংখ্যা। এটি কমবেশি হতে পারে। সরকার চাইলে হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি সরকারের কাছে আবেদন করে কমাতে পারে।
