ড. কামাল বললেন

৭২-এর সংবিধানে নতুন করে ঠিক করার কিছু নেই

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:১২ এএম

৭২-এর সংবিধানকে নতুন করে ঠিক করার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা দুঃশাসন করেছে বলে সম্পূর্ণ সংবিধানকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারি না।’ গতকাল রবিবার সকালে প্রেস ক্লাবে গণফোরামের এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, জন-আকাক্সক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে। তবে ৭২-এর সংবিধানকে কবর রচনা করতে পারে, এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশের অন্যতম এই সংবিধানপ্রণেতা বলেন, বিগত বছরগুলোয় রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্লজ্জ দলীয়করণের ফলে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করতে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের যৌক্তিক সময় ও সার্বিক সহযোগিতা করা সব রাজনৈতিক দল এবং জনগণের নৈতিক দায়িত্ব।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের অঙ্গীকার ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বিগত ৫৩ বছরেও আমরা কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ অর্জন করতে পারিনি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা হচ্ছে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার। এ ক্ষেত্রে ছাত্র-জনতার মধ্যে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। দেশ গড়ার কাজে তারুণ্যের এই শক্তিকে কাজে লাগতে হবে। এটা যাতে বিনষ্ট না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সিক্ষত একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের চেতনা থেকে যেমন সরে আসতে পারি না; তেমনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বৈষম্যমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা নস্যাৎ হতে দিতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশের চলমান রাজনীতিতে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা সমাধানের একমাত্র পথ হচ্ছে রাজনৈতিক ঐক্য। এই ঐক্যের ভিত্তি হচ্ছে আমাদের জাতীয় চেতনা, যা ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৭২-এর সংবিধান এবং ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা।’

সংবাদ সম্মেলনে কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি পরিষদ সদস্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম আলতাফ হোসেন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম জুগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট সুরাইয়া বেগম, কোষাধ্যক্ষ শাহ নূরুজ্জামান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত