আদালত থেকে কেস ডকেট গায়েব, প্রভাব পড়বে না বিচারে

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৪৭ পিএম

চট্টগ্রাম আদালতের বারান্দা থেকে ১ হাজার ৯১১টি কেস ডকেট বা সিডি গায়েব হয়ে গেছে। মহানগর আদালতের পিপির কার্যালয়ের কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সামনে আদালতের বারান্দায় রাখা হয়েছিল এসব সিডি। এ ঘটনায় গত ৫ জানুয়ারি নগরের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া। তবে সিডি গায়েব হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন নগরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম। 

জিডির তদন্ত চলছে বলে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা সোমবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গায়েব হওয়া কেস ডকেটে মামলার কোনো নথিপত্র ছিল না। নথি গায়েব হয়েছে বলে গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচারিত হচ্ছে। কেস ডকেটে মানচিত্র, সূচিপত্র, রাষ্ট্রপক্ষের ১৬১ ধারায় জবানবন্দির নথিসহ অন্যান্য কাগজপত্র থাকে। মামলার নথিপত্র থাকে বিচারিক আদালতে। পুলিশের বিভিন্ন সার্কেল অফিসেও কেস ডকেটের কপি থাকে। পরে এসব সমন্বয় করা যায়।’ 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় মহানগর পিপির কার্যালয়। এটির পাশে মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস ও খাস-কামরা। দিনভর আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের পদচারণা থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে আদালত ভবনে নিরাপত্তা জোরদার থাকার কথা। আদালতের প্রত্যেক ফ্লোরে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরাও। আদালতের বারান্দা থেকে কেস ডকেট গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত আইনজীবীরাও। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন তারা।

জিডিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগর পিপি কার্যালয়ে ২৮ থেকে ৩০টি আদালতের কেস ডকেট রক্ষিত ছিল। পিপি কার্যালয়ে জায়গা-স্বল্পতার কারণে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে পিপি কার্যালয়ের সামনের বারান্দায় প্লাস্টিকের বস্তায় ১ হাজার ৯১১টি মামলার কেস ডকেট পলিথিনে  মোড়ানো অবস্থায় রাখা ছিল। আদালতের অবকাশকালীন ছুটির সময় অফিস বন্ধ থাকায় গত ১৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিডিগুলো হারিয়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি থানায় ডায়েরিভুক্ত করে রাখার জন্য আবেদন করা হলো।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত