দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আজান দেওয়া স্বতন্ত্র একটি ইবাদত। তাই বিনা অজুতে আজান দেওয়া নিষেধ। অনেক ইমাম মাকরুহও বলেছেন। ইবনে শিহাব (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরাইরা (রা.) বলেছেন, ‘বিনা অজুতে কেউ যেন নামাজের আজান না দেয়।’ (তিরমিজি ২০১)
আজান দেওয়ার ফজিলত : অনেকে আজান দেওয়াকে খাটো চোখে দেখে। তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। অপমান ও লাঞ্ছনার পেশা মনে করে। অথচ আজান দেওয়াতে রয়েছে বহু সওয়াব। এটা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নেকির আশায় একাধারে সাত বছর আজান দেবে তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত নির্ধারিত রয়েছে।’ (তিরমিজি ২০৬)
আজান দেওয়ার গুরুত্ব : অনেক সময় এমন হয় যে, আজান দেওয়ার জন্য মানুষ পাওয়া যায় না। আজান দেওয়াকে গুরুত্বহীন ও নিম্ন শ্রেণির পেশা মনে করে। অথচ আজানের গুরুত্ব কেমন তা হাদিস থেকে অনুমেয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যদি জানত আজান দেওয়া এবং নামাজের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কী ফজিলত রয়েছে, তবে তা পাওয়ার জন্য লটারি ছাড়া উপায় না থাকলে তারা সেটার জন্য লটারি করত। আর তারা যদি জানত যে, দ্বিপ্রহরের (জোহর ও জুমা) নামাজের প্রথম সময়ে গমনে কী রয়েছে, তবে সেটার দিকে দ্রুতগতিতে ধাবিত হতো। আর তারা যদি জানত এশা ও ফজরের নামাজে কী রয়েছে, তাহলে উভয় নামাজের জন্য অবশ্যই হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হতো।’ (নাসায়ি ৬৭১)
মুয়াজ্জিনের জন্য নবীজির দোয়া : মুয়াজ্জিন বড়ই ভাগ্যবান। কারণ স্বয়ং নবী (সা.) তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইমাম হলো (নামাজের) জামিন আর মুয়াজ্জিন হলো আমানতদার। হে আল্লাহ! ইমামকে সৎপথ দেখাও আর মুয়াজ্জিনকে মাফ করো।’ (তিরমিজি ২০৭)
