ঈদগাহ মাঠের জায়গা দখল করে দোকানঘর

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৩৬ এএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ডাউটিয়া ঈদগাহ মাঠের জায়গায় ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে কমিটিতে থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় মোখলেসুর রহমান নামে এক ব্যক্তির করা লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এমন তথ্য জানা গেছে।

রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ডাউটিয়া মৌজার আরএস ১৬৭ ও ১৬৮ দাগে মোট ৪৮ শতাংশ জমি ডাউটিয়া ঈদগাহের নামে। অথচ পশ্চিম পাশে জামে মসজিদের কিছু ফাঁকা মাঠ ছাড়া পূর্বপাশের বাকি সবটুকু জায়গা দখল করে বসানো হয়েছে বাজার। ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্করসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরা দোকানঘর তুলে দেদারসে ব্যবসা করছেন। আবার কেউ কেউ কমিটির কাছ থেকে কম দামে ভাড়া নিয়ে বেশি দামে অন্যকে ঘর ভাড়া দিচ্ছেন। ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য পাওনা থেকে। এতে রক্ষক অবতীর্ণ হয়েছেন ভক্ষকের ভূমিকায়।

গত রবিবার স্থানীয় বাসিন্দা ও ডাউটিয়া বাজারের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদগাহ মাঠ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ঈদগাহ মাঠে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের ফার্মাসির দোকান দিয়ে ব্যবসা করছেন। নতুন করে ঘরটি ভেঙে সংস্কারের নামে সম্প্রসারণ করতে গেলে এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়েন তিনি। সরকারি রাস্তা বন্ধ করে ঘর তোলার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নজর এড়াতে ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার বেছে নিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে কবির ও শাজাহান নামের দুই ব্যক্তি মুদি দোকান ও কীটনাশক ওষুধের ব্যবসা করছেন ঈদগাহ মাঠের জায়গায়। বকচর গ্রামের আমজাদ নামের এক ব্যক্তি দোকানঘর তুলে মহর নামের আরেক ব্যবসায়ীকে ভাড়া দিয়েছেন। তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা অ্যাডভান্স নিয়ে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা করে ভাড়া তুলছেন তিনি। একইভাবে আরজুল্লাহ, তাসের, আশরাফুল ও ইসমাইল হোসেন মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছেন ঈদগাহ মাঠের জায়গায়।

ডাউটিয়া গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আলী আকবর বলেন, দোকানঘর তার নয়। তিনি কমিটির এক নেতাকে ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে দোকানঘর চালাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে ডাউটিয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি সোনামুদ্দিন অসুস্থ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঈদগাহ মাঠের সম্পত্তি তার পূর্ব-পুরুষের দান করা দাবি করে অভিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর বলেন, ‘মসজিদ উন্নয়নে প্রতি মাসে টাকা দিয়ে মাঠের জায়গায় ব্যবসা করছি।’ কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্তের রেজ্যুলেশন আছে কি-না জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

জামির্ত্তা ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গা পরিমাপ করে রিপোর্ট দিয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত