বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নিয়ে মানুষের মনোভাব জানতে যৌথভাবে সারা দেশে নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে। গতকাল সোমবার থেকে ঘোষণাপত্রের দাবিতে লিফলেট বিতরণ, সমাবেশ এবং নানা মাত্রার জনসংযোগ শুরু করেছেন তারা। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আহতদের বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুচিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, অভ্যুত্থানে আওয়ামী খুনি ও দোসরদের বিচার নিশ্চিত করাসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয় এসব কর্মসূচিতে।
আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় দিন সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, পেশাজীবী মানুষের মধ্যে জনসংযোগ চালাবেন তারা। এর আগে শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলা মোটরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
জাতীয় নাগরিক কমিটির সহমুখপাত্র মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া জানিয়েছেন, ‘আজ থেকে আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি যৌথভাবে সারা দেশে জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবিতে লিফলেট বিতরণ করবে। ঘোষণাপত্রে জন-আকাক্সক্ষার কথা নিয়ে আসতে গণসমাবেশ করবে এবং সব শ্রেণির জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে জনসংযোগ করবে।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত ৩১ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে মার্চ ফর ইউনিটিতে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাই প্রোক্লেমেশন ঘোষণার দাবি জানিয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সব অংশীজনকে নিয়ে এই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করা হবে। এই অভ্যুত্থানে যেমন দেশের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ ছিল, আমরা মনে করি এই ঘোষণাপত্রে জনমানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। আমরা মানুষের কাছে ছুটে যেতে চাই।’
ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিলোপ, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণ এবং জুলাই বিপ্লব ঘোষণা এই জন-আকাক্সক্ষা অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে অংশ নেন নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সেল সম্পাদক জাহিদ হাসান, সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, রিফাত রশীদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুর জেলার নেতা আবরার নাদিম ইতু, সোহেল রানা প্রমুখ।
এ সময় সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ের ঘোষণাপত্রের কথা বলেছি, আপনারা রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে এই অভ্যুত্থানকে সফল করেছেন। এই অভ্যুত্থান সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্বীকৃতি থাকতে হবে। এ অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে, ২০২৪ সালে যারা জীবন দিয়েছেন, আমার শহীদ ভাইরা, যারা রক্ত দিয়েছেন, আমাদের আহত যোদ্ধারা তাদের স্বীকৃতি এ ঘোষণাপত্রে থাকতে হবে। যে প্ল্যাটফর্মকে সামনে রেখে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ওই ঘোষণাপত্রে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকতে হবে।’
