চট্টগ্রামের হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জিন্স প্যান্ট পরে আসায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ব্যাডমিন্টন র্যাকেট দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) স্কুলের শ্রেণিকক্ষে এই ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম নিরব দাশ।
শিক্ষার্থীর বাবা প্রবীর কুমার দাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ছেলের স্কুলের প্যান্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় একটি জিন্স পরে ক্লাসে যায়। এ ছাড়া স্কুলের শার্ট, আইডি কার্ড, সোয়েটার সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু কোনো কারণ জানতে না চেয়ে সিরাজুম মুনিরা জিসান নামের শিক্ষক তাকে ব্যাডমিন্টন র্যাকেট দিয়ে পিটিয়ে পিঠে আঘাত করেন। এ ছাড়া আমার ছেলের গালে চড় মেরে সেখানেও ক্ষত করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমার ছেলে কী এমন ভুল করেছে যে তাকে অমানবিকভাবে মারতে হল। স্কুল থেকে আনার পর ছেলে তার মাকে বিষয়টি জানায়। কিন্তু স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ায় আমরা স্কুলে কাউকে পাইনি। এ ঘটনার পর আমরা জেলা শিক্ষা অফিসার উত্তম খিসা স্যারকে জানিয়েছি। উনি আগামীকাল যেতে বলেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সিরাজুম মুনিরা জিসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে একাধিক বিষয়ে ফেল করেছে তাই তাকে আবার একই ক্লাসে ভর্তি করা হয় এবং অভিভাবককে নিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু সে স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আর স্কুলে আসেনি। আজ যখন স্কুলে এসেছে তখন স্কুলের প্যান্ট ও ঠিক ছিল না। আমি তার অনুপস্থিতির কারণ এবং অভিভাবক না আনার বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায় তার বাবা ব্যস্ত থাকে বিধায় আসতে পারেনি। সে সময় আমি তাকে শাসন করার জন্য র্যাকেটের পেছনের অংশ দিয়ে কোমরের নিচে দুইবার আঘাত করেছি।
তিনি আরও বলেন, সে ফেল করেছে তাকে অভিভাবক নিয়ে আসতে বলা হলে সে আর স্কুলেই আসেনি এটা কি নৈতিক অবক্ষয় না? অভিভাবকের দায় তার সন্তানের খোঁজ রাখা।
শিক্ষার্থী এমন ভুল করলে এভাবে শাসন করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এমন কিছু তো করিনি। করলে তার অভিভাবক আমার স্কুল প্রধানের সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন। তিনি সেটি না করে সাংবাদিকদের জানাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীকে মারধরের ব্যাপারে জানতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনকে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।
জেলা শিক্ষা অফিসার উওম খিসা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে শিক্ষার্থীর বাবা আমাকে জানিয়েছেন। উনার কাছ থেকে বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে সে শিক্ষক কাজটি ঠিক করেননি। এ ধরনের অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। অভিভাবককে আমার দপ্তরে আসতে বলেছি।
কোটা বাতিল না হলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি
জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল
হামলার এক মাস পর আগরতলা ফিরলেন সহকারী হাই কমিশনার
দেয়ালে লিখে সমন্বয়ককে হত্যার হুমকি