রাঙ্গামাটিতে কামাল আহমেদ

প্রেস কাউন্সিল তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৮ এএম

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেছেন, বর্তমান প্রেস কাউন্সিল তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি অকেজো হয়ে পড়েছে। এটি বিলুপ্ত করে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে হবে। একই সঙ্গে মফস্বল থেকে রাজধানী ঢাকার সাংবাদিকের জীবনমান উন্নয়ন ও পেশাগত স্থিতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে বেতন কাঠামো নির্ধারণসহ অন্যান্য বিষয়ে সুপারিশ করব।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তিন পার্বত্য জেলার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন কামাল আহমেদ।

এ সময় কমিশনের সদস্য বেগম কামরুন্নেছা হাসান, মোস্তফা সবুজ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময়ে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের সংবাদকর্মীরা নিজের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে নানা বিষয়, কাজের পরিবেশ ও পেশাগত উন্নয়ন, স্থানীয় নানাপক্ষের চাপসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

সভায় বক্তব্য দেন রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক একেএম মকছুদ আহমেদ, খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি তরুণ কান্তি ভট্টাচার্য, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক, দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পাদক ফজলে এলাহী, রাঙ্গামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমাসহ ২৪ সংবাদকর্মী। মতবিনিময়ে পার্বত্য তিন জেলা থেকে ৭৫ সংবাদকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

সভায় গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সর্বদা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। কিন্তু সে অনুযায়ী বেতন-ভাতা বা সম্মানী পান না। তাদের জীবিকা এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, অপ-সাংবাদিকতা রুখতে হলে ভুঁইফোড় গণমাধ্যম বন্ধ করতে হবে এবং নতুন গণমাধ্যম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে। কিছু গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বেতন না দিয়ে উল্টো নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করে, সেসব গণমাধ্যমকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সংবাদকর্মীরা।

স্থানীয় সাংবাদিকদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা শোনার পর গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা সারা দেশ থেকেই গণমাধ্যমকর্মীদের ভাষ্য, সুপারিশ ও অভিজ্ঞতা জানছি। একই সঙ্গে জনজরিপও করছি, কেমন গণমাধ্যম দেখতে চান মানুষ। সবকিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত প্রস্তাবনা সরকারের কাছে তুলে দেব আমরা। আমরা আশা করছি, কিছু একটা হবে, কিছু পরিবর্তন আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণ্যমাধ্যম সংস্কারের জন্য সবচেয়ে বড় অংশীজন হলো জনসাধারণ। তাদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে গণজরিপের কাজ আজ (গতকাল) শেষ হবে। সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জীবনের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত