কৃষিপ্রধান দেশ হলেও বাংলাদেশ তার প্রয়োজনের ১০০ শতাংশ পাম অয়েল, ৯৯ শতাংশ চিনি, ৯০ শতাংশ সয়াবিন তেল, ৯৫ শতাংশ গম আমদানি করে। পেঁয়াজ, ডাল, নানা ধরনের শুকনো ও রসালো ফল, মসলার পাশাপাশি এখন আবার আলু এবং ডিমও আমদানি শুরু করেছে। উৎপাদন স্বয়ংসম্পূর্ণতার কাছাকাছি হলেও মাঝে মধ্যে চালেরও আমদানি করতে হয়। খাদ্যপণ্য আমদানিতে দেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। অতি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশে এত খাদ্যপণ্য আমদানি গৌরবের কোনো কথা নয়। অথচ হওয়ার কথা ছিল উল্টোটা; কৃষিপণ্যের রপ্তানি। এখন আবার কৃষিতে যে সব চ্যালেঞ্জ আবির্ভূত হচ্ছে, সেগুলোর প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা না গেলে খাদ্যপণ্য আমদানির প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যাবে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে হার বিরাজমান, তাতে প্রতি বছর প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ নতুন করে যুক্ত হচ্ছে। ফলে খাদ্য-জোগানের ওপর ক্রমবর্ধিত হারে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। উল্টো দিকে আবাদযোগ্য ভূমি ক্রমবর্ধিত হারে হ্রাস পাচ্ছে; প্রতি বছর গড়ে ০.৩ শতাংশ হারে কৃষিজমি নানা রূপ অকৃষি কাজে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। উচ্চ চাষ-ঘনত্বের জন্য ভূমি দ্রুত উর্বরতা-রিক্ত হয়ে পড়ছে। সয়েল রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী দেশের অধিকাংশ ভূমিতেই জৈব পদার্থের পরিমাণ ১.৫ শতাংশের নিচে; অথচ মাটির স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের জন্য অন্যূন ২.৫ শতাংশ জৈব পদার্থের উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। তাছাড়া, ভূমিক্ষয়, ভূমিধস, জলাবদ্ধতা, ভূমির অম্লীকরণ, ভারী ধাতুর দূষণ প্রভৃতি ভূমির লভ্যতা, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতাকে হ্রাস করে ফেলছে। উৎপাদিত পণ্যের দূষণও একটি সর্বগ্রাসী সমস্যা।
জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শিকার এদেশের কৃষি। অকালীন ও মাত্রাতিরিক্ত বন্যা, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, ঘন ঘন খরা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততার আক্রমণ প্রভৃতির প্রতিকূল প্রভাব দৃশ্যমান হওয়া শুরু হয়েছে। এক সময় বরিশাল অঞ্চল ছিল দেশের শস্য ভাণ্ডার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেই বরিশাল অঞ্চলে এখন রংপুর ও খুলনা অঞ্চলের চেয়ে প্রায় ৩৩ শতাংশেরও কম পরিমাণ চাল উৎপন্ন হচ্ছে। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ভূমির অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৪.৫৭ মিটার ঊর্ধ্বে। অথচ দেশসংলগ্ন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছর গড়ে ৩ মিলিমিটার করে বেড়ে চলেছে। দেশের তাপমাত্রাও প্রতি দশকে গড়ে ০.২ ডিগ্রি সে. করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত ৩৫ বছরে লবণাক্ততার মাত্রাও ২৬ শতাংশ বেড়েছে। দূষণের তীব্রতায় দেশের স্থলজ, জলজ ও কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্র এখন ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে (Research Priorities in Bangladesh Agriculture, BARC, Bangladesh, May, 2023)।
এ দৃশ্যপট দেখে অনেকেই দেশের ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু উপযুক্ত পরিকল্পনা, দৃঢ় অঙ্গীকার, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও সতত উদ্ভাবন কর্মের মাধ্যমে এই সংকট থেকে উত্তরণ অসম্ভব কোনো বিষয় নয়। এখানে সংক্ষেপে দুটি ছোট দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করব। একটি হলো মধ্যপ্রাচ্যের ঊষর ভূমির দেশ ইসরায়েল। মুসলমানবিদ্বেষী দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও অক্লান্ত পরিশ্রম, অঢেল বিনিয়োগ, নিরন্তর গবেষণা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তারা নীরস ভূমিকে সরস করে দেশের খাদ্য-স্বয়ম্ভরতার কাছাকাছি নিয়ে গেছেন। আরেকটি দেশ হলো ইউরোপের ক্ষুদ্র জনপদ নেদারল্যান্ডস। আয়তনের দিক থেকে দেশটি বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ হলেও কৃষিপণ্যের রপ্তানির পরিমাণ বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ; শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরে। অবিরত গবেষণা, নিত্যনতুন উদ্ভাবন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ দেশটিকে এই মর্যাদা এনে দিয়েছে।
ইসরায়েল : দেশটির আয়তন মাত্র ২২,১৪৫ বর্গ কিলোমিটার। এর দুই-তৃতীয়াংশ ভূমি আবাদের অযোগ্য মরুভূমি বা মালভূমি। আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ মাত্র ২,৯৫,০০০ হেক্টর। জনঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪৫৩ জন। দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন না করতে পারলেও অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদনে দেশটি শুধু স্বয়ম্ভরই নয়, রপ্তানিকারকও বটে। সেখানে গাভীপ্রতি বার্ষিক দুগ্ধ উৎপাদনের পরিমাণ ১৩,০০০ লিটার। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে এর হার যাথাক্রমে ১০,০০০ ও ৬,০০০ লিটার। হেক্টরপ্রতি টমেটোর ফলন ৩০০ টন, অথচ বৈশ্বিক গড় ফলন ৫০ টন। লেবুজাতীয় ফল (জাম্বুরা, ডালিম, বরই, স্ট্রবেরি, খেজুর, এভাকাডো প্রভৃতি) উৎপাদনে ইসরায়েল বিশ্বে নেতৃস্থানীয়। ২০১৮ সালে দেশটি ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের শাকসবজি রপ্তানি করে। এই শাকসবজির ৪০ শতাংশের বেশি পরিমাণ উৎপন্ন হয় মরুভূমিতে। রপ্তানিকৃত তরমুজের ৯০ শতাংশই জন্মায় এইসব ঊষর ভূমিতে। প্রতি হেক্টরে ৪,৫০০ কেজি ফলন ফলিয়ে ইসরায়েল বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জোজোবা উৎপাদনের দাবিদার। কৃষিতে ইসরায়েলের মুন্সিয়ানা দেখাতে আরও এরূপ অসংখ্য নজির উপস্থাপন করা যাবে। প্রশ্ন হলো কীভাবে এটা সম্ভব হলো!
জায়নবাদী রাষ্ট্রটিতে কৃষির এই অভূতপূর্ব উন্নতির পেছনে কাজ করেছে দৃঢ় রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি গবেষক, কৃষি সম্প্রসারণকর্মী ও চাষিদের এক সোনালি ত্রিভুজ। বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকার বাজেটের ৩০ শতাংশ করে ব্যয় বরাদ্দ করতে থাকে। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে গ্যালিলি সাগর থেকে দেশের দক্ষিণে অবস্থিত নেগেভ মরুভূমিতে পানি সরবরাহের জন্য ২৫০ কিলোমিটার লম্বা এক পানির পাইপ স্থাপন করা হয়। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের কাছে এ প্রকল্প ছিল বাস্তবতাবর্জিত উচ্চাভিলাষী। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলেই নেগেভ মরুভূমি ও জর্ডান মালভূমিতে কৃষি উৎপাদন সম্ভব হয়। সেখানে ভূপৃষ্ঠ থেকে এক কিলোমিটার নিচে না গেলে পানির সন্ধান পাওয়া দুষ্কর।
সেখানে গবেষণার মাধ্যমে যে সব উন্নত কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ড্রিপ ইরিগেশন, প্রিসিশন ফারমিং, লবণাক্ততা পরিশোধন, দূষিত পানির পুনর্ব্যবহার, খরা প্রতিরোধী শস্য, গ্রিন হাউজ চাষবাস প্রভৃতি। গুচ্ছবদ্ধ প্লাস্টিক পাইপের মাধ্যমে সুষমভাবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণে গাছের শেকড়ে সরাসরি পুষ্টিযুক্ত সেচ পৌঁছে দেওয়ার নাম ড্রিপ ইরিগেশন। এ ব্যবস্থায় ৩০-৭০ শতাংশ পানি, ৫০ শতাংশ সার, ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়। আবার ৩০-৭০ শতাংশ ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। এ ছাড়া এর আরও অনেক সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫ ভাগ ইসরায়েলি শস্য এই পদ্ধতিতে উৎপাদন করা হয়।
সেখানে দূষিত ও লবণাক্ত পানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিশোধন করে ব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহার করা হয়। ড্রোন ও সেন্সর ব্যবহার করে পোকামাকড়ের আক্রমণ শনাক্তকরণ এবং তার প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সবের প্রতিকার ব্যবস্থাও নেওয়া হয় জৈবিক পদ্ধতিতে। মরুভূমির উপযোগী, কীট প্রতিরোধী এবং স্বল্প রাসায়নিক উপাদাননির্ভর শস্য উৎপাদনের জন্য জিএম ফসল উদ্ভাবন করা হচ্ছে। ফসলের গুণগত মান ও নিরাপত্তা উন্নত হওয়ায় এবং সংগ্রহের সময় দূষণ প্রতিরোধে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া অবলম্বন করায় রপ্তানিকৃত ফসলের প্রায় ৭৬ শতাংশ যায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। মরুভূমির এই অনুর্বর দেশে কৃষির এই অকল্পনীয় দৃশ্যপট দেখে আফ্রিকার অনেক রাষ্ট্র ইসরায়েল থেকে প্রযুক্তি আমদানির মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে আশাবাদী হয়ে উঠছে।
নেদারল্যান্ডস : নেদারল্যান্ডসের আয়তন ৪১,৮৫০ বর্গকিলোমিটার। জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫৩৫ জন। চাষযোগ্য ভূমির পরিমাণ ৩৩,৫০০ বর্গকিলোমিটার। কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেশ, আর ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রথম। দেশটির মোট রপ্তানিতে কৃষিপণ্যের অবদান ২১ শতাংশ। ২০১৯ সালে কৃষিপণ্যের মোট রপ্তানি মূল্য ছিল ৯৪ বিলিয়ন ইউরো।
নেদারল্যান্ডস প্রতি বছর গড়পড়তা ৪ মিলিয়ন গরু, ১৩ মিলিয়ন শূকর, ১০৪ মিলিয়ন মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করে থাকে। দেশটি প্রায় ২৪,০০০ একর ভূমিতে গ্রিন হাউজে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শস্য উৎপাদন করে। এসব ক্ষেত্রে অনেক কম পানি ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে অনেক বেশি পরিমাণে পণ্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। গতানুগতিক পদ্ধতিতে এক একর ভূমিতে যে পরিমাণ শস্য উৎপন্ন হয়, এই ব্যবস্থায় সেখানে ১০ গুণ বেশি শস্য উৎপন্ন হয়। যেমন এক পাউন্ড টমেটো উৎপাদনে ডাচরা আধা গ্যালন পানি খরচ করে থাকে, অথচ এ পরিমাণ শস্য উৎপাদনে বিশ্বে গড় পানি খরচ ২৮ গ্যালনেরও বেশি। প্রতি একর জমিতে তারা ২০ টনেরও বেশি পরিমাণ আলু উৎপাদন করে, যেখানে একরপ্রতি বৈশ্বিক গড় উৎপাদন ৯ টনের মতো। এসব আধুনিক প্রক্রিয়ায় তারা যে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে, তাই না, উৎপাদনে পানির ব্যবহার প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস করেছে এবং রাসায়নিক কীটনাশক প্রায় নির্মূল করে ফেলেছে। কৃত্রিম মাংস (cultured meat) উৎপাদন ও রপ্তানিতেও বিশ্বে তারা পথিকৃৎদের অন্যতম। একইভাবে কৃষির প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সাফল্য চোখ ধাঁধানো। তারা সাগর পাড়ে বাঁধ নির্মাণ করে ভূমি উদ্ধার করেছে, বন্যা ও জলাবদ্ধতা দূর করেছে এবং দক্ষতার সঙ্গে তার ব্যবহার করে চলেছে। তাদের এই সাফল্যের জন্য যে প্রবাদ চালু রয়েছে, তা হলো, God has created the world, but the Dutch has created the Netherlands.
কৃষিক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডের এই অসামান্য উন্নতির পেছনে যে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি অবদান, সেটা হলো আহানিংগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ((Wageningen University and Research (WUR))। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় যেমন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক সিলিকন ভ্যালি গড়ে উঠেছে, এখানেও তেমনি আহানিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক জৈবিক সিলিকন ভ্যালি গড়ে উঠেছে। যে স্লোগানটা এর পেছনে বেশি শক্তি জুগিয়েছে, সেটা হলো, ‘Twice as much food using half as many resources’।
ইসরায়েলে ব্যবহৃত আধুনিক কৃষিব্যবস্থার প্রায় সব কৃষি প্রযুক্তিই নেদারল্যান্ডসে ব্যবহার করা হয়। তার সঙ্গে আরও আছে ভূমি সাশ্রয়ের জন্য উলম্ব কৃষি পদ্ধতি, জীবন্ত জীবকোষ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃত্রিম মাংস উৎপাদন এবং পণ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য। বাংলাদেশে কৃষির অবস্থা নেদারল্যান্ডসের বিপরীত; এখানকার কৃষিতে সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন উদার হস্তে, আর আমরা তার সেই আশীর্বাদ অপচয় ও দূষিত করছি অঝোরে। দেশে এখন সর্বসাকল্যে কৃষিপণ্য রপ্তানি মাত্র এক বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল হতেই গলদঘর্ম হচ্ছে। কৃষির এই স্থবিরতা কাটিয়ে আধুনিকতা আনতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা দেশের এ সেক্টরে জিডিপির ২ শতাংশ বিনিয়োগের সুপারিশ করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় ক্রমহ্রাসমান সম্পদের পটভূমিতে ক্রমবর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটাও অকিঞ্চিৎকর প্রতিপন্ন হতে পারে; এখানে ইসরায়েলের মতো ব্যাপক মাত্রার না হলেও তার কাছাকাছি পর্যায়ের বিনিয়োগ অবশ্যই প্রয়োজন।
ইসরায়েল ও নেদারল্যান্ডসের সর্বাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কম-বেশি একই মান ও প্রজন্মের; তবে কিছুটা প্রাকৃতিক অনুকম্পায় নেদারল্যান্ডসের কৃষি অনেক অগ্রসর ও সমৃদ্ধ। আর বাংলাদেশের কৃষি প্রাকৃতিকভাবে আশীর্বাদপ্রাপ্ত। কাজেই তাতে সর্বাধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ, বিনিয়োগ ও গবেষণার মাধ্যমে পণ্যের উৎপাদন ও নিরাপদতা বাড়াতে পারলে রিটার্ন হবে ভুঁইফোড়। এই অমিত সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন কারিগরি সহযোগিতা। দেশের নদীশাসন ও সেতু উন্নয়নসহ অনেক ক্ষেত্রে ডাচদের সহযোগিতা রয়েছে। কাজেই অনুরুদ্ধ হলে কৃষিতে ডাচ সহযোগিতা না আসার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজন হলো সরকারের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনা ও দৃঢ় অঙ্গীকার। ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে এটাকে করতে হবে প্রধান হাতিয়ার।
লেখক: সাবেক মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর ও কলামিস্ট
