ঋতু পরিক্রমায় শীতকাল প্রাকৃতিক অনাবিল সৌন্দর্য নিয়ে আগমন ঘটায়। শীতের এই মৌসুম অনেকের জন্য সুখের হলেও কিছু মানুষের জীবনে অভিশাপ বয়ে আনে। শীতের আমোদে আমরা যখন পিঠা-পুলির আয়োজনে ব্যস্ত থাকি তখন এক শ্রেণির মানুষ অভাব অনটনে দিনাতিপাত করে। দুঃখ যেন তাদের দরজায় হানা দেয়। জরাজীর্ণতায় উষ্ণতাবিহীন মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের।
যাদের বসবাসের কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই, অর্থের অভাবে যাদের বস্ত্র কেনাও দুঃসাধ্য, তাদের জন্য শীত এক দুর্ভোগেরই নাম। তাদের এই কষ্টের সময় শীতবস্ত্র বিতরণ করা অতীব প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে কাপড় পরায়, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের পোশাক পরাবেন।’ (সুনানে তিরমিজি) হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘কোনো মুসলিম অপর মুসলিমকে কাপড় পরতে দিলে সে ততদিন আল্লাহর হেফাজতে থাকে, যতদিন পর্যন্ত সেই কাপড়ের সামান্য অংশও তার শরীরে থাকে।’ (তিরমিজি) শীতকালে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় অসহায় গরিব মানুষেরা। শীতের মৌসুমে যখন উচ্চবিত্তরা হিটার চালিয়ে উষ্ণ কাপড় পরিধান করে রাত্রিযাপন করে তখন ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় রাস্তার ধারে বসবাসকারী পরিবারগুলোতে। শীতের তীব্রতর রূপ বরণ করে শৈত্যপ্রবাহকে আলিঙ্গন করে জবুথবু হয়ে নির্ঘুম রাত্রিযাপন করে তারা। শীতের সঙ্গে সংক্রমণ ঘটে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধির। যথোপযুক্ত বাসস্থানের অভাব এবং শীতবস্ত্রের অভাবে ঠা-াজনিত অসুস্থতায় ভুগতে থাকে অভাবী গরিব মানুষজন। সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় পথশিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। তাদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ¦র, হাঁপানি, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অকালে পথেঘাটে মৃত্যুবরণ করে তারা। তাদের এই ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিরাময়ের লক্ষ্যে বিত্তশালীদের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাহলে বিপদে আপদে লোকেরা স্বস্তি খুঁজে পাবে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহতায়ালা কেয়ামতের দিন তার সব বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো অভাবী মানুষকে সচ্ছল করে দেবে, আল্লাহতায়ালা তাকে ইহকাল ও পরকালে সচ্ছল করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম) আসুন শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করি।
