রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরের ঝিলপাড়ে সাত একর জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা বস্তি উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক)। বস্তিটি স্থানীয়দের কাছে মোল্লা বস্তি হিসাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের আমলে সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা সরকারি জায়গা দখল করে এ বস্তি গড়ে তুলেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
প্রায় ৭ একর জায়গায় গড়ে ওঠা বস্তিটিতে বসবাস করেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। আগাম নোটিস ছাড়াই উচ্ছেদ করায় ক্ষোভ জানিয়ে পুনর্বাসনের দাবি জানান তারা। এর আগে গত ১১ ও ১৪ জানুয়ারি বিদ্যুৎসংযোগ ও পানির লাইন বন্ধ করতে গেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বাসিন্দারা। এরপর উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে গত মঙ্গলবার বস্তির বিদ্যুৎ ও পানিসংযোগ বন্ধ করা হয়।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতিকে ঝিলপাড়ে সাত একর জমি বরাদ্দ দেয় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এর তিন বছর পর বেদখল হয়ে যায়। সমিতির সভাপতি সদরুল হাসান বলেন, ‘সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার লোকেরা জায়গাটা দখল করেছে। যতবার ভাঙা হয়েছে, ততবারই তিনি দখল করে নিয়েছেন।’
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাইয়েবুর রহমান আশিক বলেন, আগাম নোটিস দেওয়ার পরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, উচ্ছেদ করে প্রাপ্য গ্রাহককে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি। সরকারের সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রেলের জমির উপর গড়ে ওঠা অবৈধঘর ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্কেভেটর মেশিন দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ছোট ছোট খুপরিঘর, অস্থায়ী হোটেল এবং অবৈধভাবে রেলের জায়গায় রাখা ভ্যান, টং দোকান।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, এদিন প্রায় ৪০০ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছোট ছোট দুই শতাধিক খুপরিঘর রয়েছে। সারা দেশে রেলের ৮০ শতাংশ জমি বেদখল হয়ে আছে। এসব জমি দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলবে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আমাদের কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। অন্তত দুই দিন সময় দেওয়া হলে আমরা নিজেরাই এগুলো খুলে নিয়ে যেতে পারতাম।
